হাম ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৪৯৪ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদন থেকে সোমবার (১৮ মে) এই তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৮৯ জন। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে ১৮ মে পর্যন্ত দুই মাসে সারাদেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯১১ জনে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্ট ও পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে সাত হাজার ৮৫৬ জন। একই সময়ে হামের উপসর্গে দেশে ৩৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৭৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে মোট ৪৬৪ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪২ হাজার ৮৬৮ জন। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৮ হাজার ৯৮০ জন।
দেশে হামে মৃত্যু ও শনাক্তে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ঢাকা বিভাগ। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার এবং আক্রান্ত রোগীকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।