এক গোলটেবিল আলোচনায় জাতীয় বাজেট প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং তাদের জন্য ন্যায্য বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দি ডেইলি স্টার কার্যালয়ের আজিমুর রহমান হলে সোমবার (১৮ মে) তারা এ আহ্বান জানান।
‘জাতীয় বাজেট: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায্য বরাদ্দ, অংশীদারিত্ব এবং বাস্তবায়ন ও মনিটরিং’ শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)। অনুষ্ঠানে সিআরডির গবেষণাদলের প্রধান গাজী সারওয়ার্দী জাতীয় বাজেট বিষয়ক সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, বৈষম্য হ্রাস ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাজেটের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও অধিকার বিবেচনায় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সমীক্ষায় পারিবারিক কৃষি, গ্রামীণ নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, যুবসমাজ, নগর দরিদ্র এবং ভূমি-জলা-কৃষি সংস্কার—এই ছয়টি খাতের জন্য পৃথক সুপারিশ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ কোটি ৩০ লাখ পারিবারিক কৃষকের জন্য ১ লাখ ৯ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। একই সঙ্গে কৃষক কার্ড, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সরকারি শস্য ক্রয় বৃদ্ধি ও গুদাম ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।
গ্রামীণ নারীদের জন্য কমপক্ষে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়ে নারী কৃষকদের জন্য কৃষি বীমা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, সামাজিক সুরক্ষা ও সহিংসতা প্রতিরোধে আলাদা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি বিশেষ আদিবাসী শুমারি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন এবং পার্বত্য অঞ্চলের ইচ্ছুক সেটেলার বাঙালিদের পুনর্বাসনে বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়।
সেই সঙ্গে যুবসমাজের জন্য ৬১ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা এবং নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ২৩ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সহায়তা ও নিরাপদ অভিবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অন্যদিকে ভূমি সংস্কার সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য ২ লাখ ১৬ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়ে একটি স্থায়ী জাতীয় ভূমি ও কৃষি সংস্কার কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়।
গোলটেবিল আলোচনায় বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান ও সোহরাব হাসান প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তৃণমূল প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। সোহরাব হাসান বলেন, রাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশ হলেও তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক দুর্বল। তাই বাজেট বরাদ্দে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে আবু সাঈদ খান বলেন, বাজেট ব্যবস্থাপনায় বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। জনগণের প্রতিনিধিরা প্রকৃত অর্থে প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করলে বাজেটের ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে।