সারা দেশের ন্যায় পিরোজপুরেও বাড়ছে হামের প্রকোপ। প্রতিদিনই হাসপাতলে নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এতে চাপ বেড়েছে জেলার হাসপাতালগুলোতে। বাড়তি চাপ সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।
জানা গেছে, পিরোজপুর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ চরম আকার ধারণ করেছে। মাত্র ১৪টি শিশু বেডের বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৭০ জন শিশু। এর মধ্যে হাম আক্রান্ত শিশুর পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত এক শিশুও রয়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি বিছানায় একাধিক রোগী অবস্থান করছে। অনেক রোগীকে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে ছয় মাস বয়সী কৌশিক। তার দেহে হামের উপসর্গ লক্ষ করা গেছে। কৌশিকের মা মৌমিতা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এখন কিছুটা সুস্থ হয়েছে, তবে ডাক্তার বলেছেন আরও কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হবে।’
নাজিরপুর উপজেলা থেকে আসা ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলের বয়স চার বছর ছয় মাস। প্রথমে নাজিরপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় আজ পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।’
মুক্তা বেগম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলে ইয়াসিনের বয়স সাত মাস। তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এখনো তার অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি।’
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পিরোজপুর জেলায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে আরও ১২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী। এদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ২০ জনের হাম রোগ নিশ্চিত হয়েছে।
এ পর্যন্ত হামসহ বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২১১ জন শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৯২ জন। তবে এখনো অনেক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। তবে কাউকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে রোগীরা যথাযথ সেবা পান।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল করে দেয়, ফলে অন্যান্য রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এটি নিউমোনিয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত ও স্নায়ুবিক জটিলতা, ডায়রিয়া, বধিরতা, অন্ধত্ব এবং মস্তিষ্কে ফোলা (এনসেফালাইটিস)-এর মতো গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে।