হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার মধ্যেই ইরানে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান বলেছে, এসব হামলার ফলে গত কয়েক মাসের সব কূটনীতিক প্রচেষ্টা ‘ব্যর্থ’ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, রোববার রাত থেকে নতুন হামলা শুরু হয়। হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক নৌযান ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হামলা চালানো হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করছি।’
এর আগে, শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের করা হলার জবাবে রোববার উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। একই সঙ্গে তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়, যা গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যদিও সেন্টকম জানায়, কিছু জাহাজ এখনো প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে।
শনিবার রাতে প্রায় ১৪০টি হামলা চালানোর দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পাল্টা হামলা এবার কাতার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা এপ্রিলের পর প্রথম। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।
ইরানি গণমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালির সামরিক স্থাপনা-সংলগ্ন সিরিক, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলে, এতে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমানো ও শান্তি প্রতিষ্ঠার গত কয়েক মাসের সব চেষ্টা ভেস্তে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপের কারণে ওমানের রাজধানী মাসকাটে হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান-ওমানের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিকে কার্যত শেষ বলে মন্তব্য করলেও আলোচনার সম্ভাবনা খোলা রাখেন। তবে ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এক্সে লিখেছেন, ‘একতরফা চুক্তির যুগ শেষ। কথা রাখুন, না হলে মূল্য দিতে হবে।’
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি কার্যত আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে জ্বালানির দাম বেড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার টোকিওতে লেনদেন শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩.৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৪ ডলারের ওপরে ওঠে।
ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য স্থায়ী ফি আদায়ের ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে ও তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল না করার সতর্কতা দিয়েছে। ইরানের নবগঠিত ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার কারণে বর্তমানে প্রণালি দিয়ে চলাচল সম্ভব নয়; পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনুমতি দেওয়া হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তাদের বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী পরিচালিত জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার জানায়, উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলেও ওমান উপকূলঘেষা সম্প্রসারিত দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট দিয়ে দুই দিকেই জাহাজ চলাচল সম্ভব।
সেন্টকমের দাবি, গত তিন রাতে তারা ৩০০টিরও বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস জর্ডান, কুয়েত, ওমান ও কাতারে হামলার দাবি করলেও, এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান