নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের একটি বক্তব্যের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) রাত আটটার পর চার মিনিট চার সেকেন্ডের ওই অডিও ভাইরাল হলে পুলিশ প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ওসি আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলেমিশে থাকব। ধরেন, দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম। এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ করে দিলেন এক হাজার টাকা—ওই টাকা দিয়েই আমি পার হয়ে গেলাম। তাহলে আমার তো কোনো ঝুঁকি নেই, নো টেনশন, খুব রিল্যাক্সে আছি।’
অডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের এই চাকরিটা এক ধরনের ব্যবসা। সবাই কিন্তু এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না। আমরা একজন আরেকজনকে সুরক্ষায় রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খেতে পারবেন না। আমি আপনাদের ঠকাব না। আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করছি, নাকি জমি বিক্রি করে আপনাদের চালাচ্ছি? সবাই যেন ভালো থাকতে পারে। যার যে অধিকার, সে যেন তা পায়। আমার কনস্টেবলরা যেন তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ, যারা হক মারে, রাসুল (সা.) তাদের জন্য সুপারিশ করবেন না। এটাই শেষ কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে গেছে।’
তবে অডিওটির বিষয়ে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন ওসি মো. আবুল হাশেম। তিনি বলেন, ‘কীভাবে এই বক্তব্য এসেছে, আমি জানি না। এ ধরনের কথা আমি কোথাও বলিনি। এখন আপনারা যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুনেছেন, আমিও সেভাবেই জানতে পেরেছি। আমার মনে হয় না, এমন কোনো কথা আমি বলেছি।’
এদিকে অডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ওসি আবুল হাশেমকে কলমাকান্দা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম রোববার (৩১ মে) সকালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ওসি আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নিজে কখনো কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। তাই আমার অধীনে কেউ অসৎ কর্মকাণ্ডে জড়িয়েও পার পেয়ে যাবে—এমনটি কখনো হতে পারে না।’
ঘটনাটি নিয়ে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।