দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবিতে ২৬ জনের প্রাণহানির পর যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেরিতে বাস ওঠা-নামার আগে শতভাগ যাত্রীকে বাস থেকে নামানোর নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। কিন্তু, বাস্তবে সেই নির্দেশনার কার্যকর প্রয়োগ নেই। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে আগের মতোই যাত্রীসহ বাস পারাপার চলছে। ফলে, নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয় জানায়, পাটুরিয়া -দৌলতদিয়া নৌরুটে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন হাজার যানবাহন পারাপার করা হয়। এরমধ্যে ৭০০ থেকে ১০০০ পরিবহন বাস পারাপার করা হয়। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি দিয়ে এসব যানবাহন পারাপার করা হয়ে থাকে।
গত ২৫ মার্চ রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে ডুবে যায় একটি যাত্রীবাহী বাস। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৬ জন। ঘটনার পর দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে নতুন নির্দেশনা জারি করে বিআইডব্লিউটিসি, যেখানে ফেরিতে বাস ওঠানো বা নামানোর আগে সকল যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে নামানোর কথা বলা হয়।
সরেজমিনে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট ঘুরে দেখা গেছে, পাটুরিয়ার ফেরিঘাটগুলোতে বেশিরভাগ বাসেই যাত্রী রেখে সরাসরি ফেরিতে তোলা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে চালক ও সহকারীরা যাত্রীদের নামতে বললেও সবাই তা মানছেন না। ঘাট এলাকায় নির্দেশনা সম্বলিত সাইনবোর্ড থাকলেও নিয়ম বাস্তবায়নে নেই দৃশ্যমান কড়াকড়ি। কোথাও দেখা যায়নি কঠোর মনিটরিং বা নিয়ম না মানলে শাস্তির ব্যবস্থা। যাত্রীদের সচেতন করতে কার্যকর প্রচারণাও সীমিত।
এদিকে নির্দেশনায় ফেরির পন্টুন বা রেলিংয়ে বসা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ করা হলেও বাস্তবে এসব নিয়মও মানা হচ্ছে না। একাধিক ঘাট ঘুরে কোথাও শতভাগ নিয়ম বাস্তবায়নের চিত্র পাওয়া যায়নি।
গোল্ডেন লাইন বাসের কর্মী লুৎফর মিয়া বলেন, ‘৩৫-৪০ জন যাত্রীর মধ্যে ৫-১০ জন নামলেও বাকিরা নামতে চায় না। আমরা বললেও অনেক সময় তারা শোনেন না।’
যাত্রী রোকসানা বেগম বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনার বিষয়ে তারা অবগত নন। প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি রয়েছে। ঘাট কর্তৃপক্ষের কেউ বিষয়টি অবহত করেন নাই।
কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ক্যাব) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এবিএম সামসুন্নবী তুলিপ বলেন, ঘাট এলাকায় আইন বাস্তবায়নে কার্যকর তদারকি, জবাবদিহিতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অন্যথায় দৌলতদিয়ার মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকেই যাবে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাম হোসেন বলেন, ‘আমরা নিয়ম বাস্তবায়নে কাজ করছি। ঘাট এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্টপ গেটে বাস থামিয়ে যাত্রী নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’