মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী নজরুল ইসলামের বদলির আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মঙ্গলবার (২ জুন) সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী নজরুল ইসলামকে বাগেরহাটের সৈয়দ মহল্লা খোদেজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। মাগুরায় নজরুল ইসলামের শেষ কর্মদিবস আগামী বৃহস্পতিবার (৪ জুন)।
এর আগে গত ২০ মে মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে সংবাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য সেখানে যান নাগরিক প্রতিদিনের জেলা সংবাদদাতা এস এম শিমুল রানা। এসময় তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন নজরুল ইসলাম। এমনকি নাগরিক প্রতিদিনের বুম ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসটি যেন অবৈধ আয়ের এক রমরমা বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এই অফিসে ঘুষ ছাড়া নড়ে না কোনো ফাইল। এমপিওভুক্তি, উচ্চতর স্কেল, এরিয়া বিল, অডিট জবাব, এডহক কমিটির অনুমোদন—প্রতিটি কাজেই রয়েছে আলাদা ঘুষের রেট। আর এই নির্ধারিত রেটের টাকা না দিলে মাসের পর মাস ফাইল পড়ে থাকছে কম্পিউটার অপারেটর নজরুল ইসলামের টেবিলের নিচে।
অফিসে প্রধান ক্যাশিয়ার মো. সেলিম রেজা নির্ধারিত ঘুষের টাকা হাতে পাওয়ার পর শুরু হয় সেবা প্রদানের পরবর্তী প্রক্রিয়া। আর ঘুষ বাণিজ্যের এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে জেলা শিক্ষা অফিসের প্রধান কর্তা প্রদ্যুৎ কুমার দাসের বিরুদ্ধে। মূলত তার নির্দেশনায়ই চলে এই বাণিজ্য। তার সহযোগী হিসেবে রয়েছেন সেলিম ও নজরুল।
এবার তাদের মধ্যে নজরুল ইসলামের বদলির আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। যদিও বদলির বিজ্ঞপ্তিতে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।