নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক খোরশেদ আলমকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) রাতে তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, শিশুটির মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সেই সূত্রে শিশুটি সেখানে মাঝে-মধ্যে যেত। খোরশেদ আলম তাকে প্রায়ই বাসার তিনতলার বারান্দা থেকে ডাকতেন। এক সময় বাসার কিছু কাজ করানোর অজুহাতে তাকে ডেকে নিয়ে যান। বাসায় নিয়ে খোরশেদ শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। সেই সঙ্গে শিশু ও তার মাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন তিনি।
শিশুটির মা বলেন, ‘আমারা পুলিশের হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে জানিয়েছিলাম। লিখিত জবানবন্দি দিয়েছি। স্থানীয় দুজন পুলিশের পক্ষ নিয়ে আমাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল। আমরা এখন ভয়ে বাড়িতে যেতে পারি না। চার মাস ধরে আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে খোরশেদ আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে একাধিকবার ফোন দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘তাৎক্ষণিক ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।’
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’