শরীয়তপুরে বিপুল ভক্তসমাগম ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ঢাক-ঢোল আর ভক্তদের জয়ধ্বনিতে মুখরিত ছিল পুরো আয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার মনোহর বাজার ইসকন মন্দির থেকে জেলার প্রধান ও বৃহত্তম রথযাত্রাটি বের করা হয়। মনোহর বাজার জগন্নাথ মন্দিরের আয়োজনে ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের পৃষ্ঠপোষকতায় রথযাত্রাটি হয়। শোভাযাত্রাটি মনোহর বাজার ইসকন মন্দির থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আংগারিয়া কালী মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
রথযাত্রায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজারো ভক্ত-অনুরাগী অংশ নেন। মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের উলুধ্বনি, শঙ্খ ও কাঁসরের ধ্বনিতে সৃষ্টি হয় এক ভক্তিময় পরিবেশ। পরে ঢাক-ঢোলের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে আহরণ করা হয়। পুরো শোভাযাত্রাজুড়ে ছিল ধর্মীয় সংগীত, কীর্তন এবং ভক্তদের উচ্ছ্বাস।
রথযাত্রার উদ্বোধন করে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’ এ সময় তিনি সম্প্রীতি বজায় রেখে সকল ধর্মের মানুষকে নিজ নিজ উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সিরাজুল হক মোল্লা ও শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম তালুকদার, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফ মোল্লা, শরীয়তপুর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অমিত ঘটক চৌধুরী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বিজন মণ্ডলসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ ছাড়া জেলা কেন্দ্রীয় মন্দির, বুড়িরহাট শ্রী শ্রী রাধা মাধব জিও মন্দির, তুলাশার রাধা মদন মোহন জিও মন্দির, শ্রী শ্রী রাধা শ্যামসুন্দর মন্দিরসহ জেলার পাঁচটি মন্দির থেকে পৃথক পৃথক রথযাত্রা বের করা হয়। এসব শোভাযাত্রায়ও বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশ নেন।
উৎসবকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে রথযাত্রা সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।