বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে ঢাকার পাঠানো অনুরোধ ভারত সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনা ও অন্য কয়েকজন অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ আবারও ভারতকে অনুরোধ করেছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়েছে কি না।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘প্রত্যর্পণের জন্য একটি অনুরোধ আমরা পেয়েছি। আগেও যেমন জানিয়েছি, সেটি বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনি জটিলতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
ব্রিফিংয়ে আরেক সাংবাদিক বাংলাদেশের আরেকটি পৃথক প্রত্যর্পণ অনুরোধের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, নির্দিষ্ট সেই অনুরোধটি পাওয়া গেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারছেন না। তবে যেকোনো প্রত্যর্পণ অনুরোধই আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিষ্পত্তি করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারকে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
পরদিন বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও বলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর এবং এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও তাগিদ অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।