ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুর পৌরসভা জেলার সবচেয়ে পুরোনো পৌরসভা। ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভা দেড়শ বছরের বেশি সময় পার করলেও নাগরিক সেবার মান নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই বাসিন্দাদের। ভাঙাচোরা সড়ক, অপর্যাপ্ত ও অকেজো সড়কবাতি, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানির সংকটে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন পৌরবাসী। নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে মহেশপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। তবে সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা ও চাহিদা বাড়লেও নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন সে তুলনায় হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। অপরিকল্পিত ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুমে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পৌরকর দিচ্ছি। কিন্তু নাগরিক সুবিধা বলতে তেমন কিছুই পাচ্ছি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা এতটাই খারাপ যে সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরে পৌর এলাকার বাসিন্দা শারমিন সুলতানা বলেন, ‘অনেক এলাকায় রাতে সড়কবাতি জ্বলে না। অন্ধকারে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন।’
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পুরো পৌর এলাকায় প্রায় তিন হাজার সড়কবাতির প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র দুই হাজার। এর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় রাত নামলেই শহরের অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।
সুপেয় পানির সংকটও পৌরবাসীর অন্যতম ভোগান্তির কারণ। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না থাকায় বাসিন্দাদের বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আধুনিক ও টেকসই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘জেলার সবচেয়ে পুরোনো পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও নাগরিক সুবিধার দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘পৌরবাসীর সেবার মান উন্নয়নে ইতোমধ্যে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে নাগরিক ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।’