নেত্রকোণায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব-১৪-এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নেত্রকোণা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহ র্যাবের সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে সপ্তম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা বাজারে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক সালিশ বৈঠক বসে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মুন্সি, আতাউর রহমান, স্থানীয় জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন ও দৌলত মিয়াসহ এলাকাবাসী বিচারে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য সাত দিনের সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
তবে বিএনপি কার্যালয়ে ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ সালিশ বৈঠকে নিষ্পত্তির চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তারা এটিকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার শামিল বলে দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। সম্প্রতি তিনি পাশের নন্দুরা গ্রামে জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ভুক্তভোগী কিশোরী রিপন মিয়ার প্রতিবেশী।