যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে অন্তত ১২টি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও প্রায় ২০০ পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে যমুনা নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নদীভাঙনের তীব্রতা। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। তবে শেষ সম্বল রক্ষার আশায় অনেকেই এখনও নদীতীর ছাড়তে পারেননি।
ভাঙনের শিকার মোকছেদ আলী ও ইসলাম উদ্দিন জানান, বাপ-দাদার ভিটেমাটি, বসতঘর ও গাছপালা সবই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হঠাৎ করে নিঃস্ব হয়ে পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আহাম্মদ আলী বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বড় লাউতারা ও ছনপাড়া গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে। এছাড়া এলাকার সড়ক, মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় অন্তত ৫০০ ফুটজুড়ে জিও ব্যাগ ফেলা গেলে অনেক পরিবারকে রক্ষা করা সম্ভব। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতোয়ার রহমান বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ভাঙনরোধে ইতোমধ্যে প্রায় ৭৮০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, যমুনা নদীর ভাঙন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দৌলতপুরসহ আশপাশের ভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।