ধীরগতির সাথে তীব্র ঝাঁকুনি
বরিশাল থেকে রাজধানীর পথে যাত্রা শুরু করলেই গৌরনদী অংশে বদলে যায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের চিত্র। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কের গৌরনদী অংশ এখন খানাখন্দে ভরা। কোথাও পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে সড়ক ফুলে উঠেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আবার কোথাও মূল সড়ক ও সম্প্রসারিত অংশের উচ্চতার পার্থক্যে তৈরি হয়েছে ঢেউখেলানো অবস্থা। টানা বর্ষণে গত কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে।
গৌরনদীর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণ উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, পুরো পথজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। টরকী, মদিনা, গৌরনদী, আশোকাঠী, কাসেমাবাদ, মাহিলাড়া, বাটাজোর ও বামরাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। কোথাও কোথাও মহাসড়কের মাঝখানেই তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। এসব গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনকে বারবার দিক পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও সংঘর্ষের ঝুঁকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে স্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে আপাতত গর্তে ইট ফেলে জোড়াতালি দেওয়া হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের দেওয়া এসব ইট ভারী যানবাহনের চাপে দ্রুত গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। এতে তৈরি হচ্ছে ধুলা। আবার বৃষ্টির পানিতে ভরাট করা অংশ ধুয়ে যাওয়ায় কয়েক দিনের মধ্যেই একই স্থানে নতুন করে গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে।
চালকদের অভিযোগ, শুধু গর্ত নয়, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক এতটাই উঁচু-নিচু হয়ে গেছে যে যানবাহনের চাকা ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে মালবাহী যানগুলোকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদেরও পুরো পথজুড়ে তীব্র ঝাঁকুনির কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে গর্তের পাশাপাশি মূল সড়ক ও সম্প্রসারিত অংশের উচ্চতায় পার্থক্য রয়েছে। এতে কম প্রশস্ত অংশে যানবাহন বেশি গতিতে চলাচল করছে। মহাসড়কে চলাচলকারী থ্রি-হুইলারগুলোও অনেক সময় সম্প্রসারিত অংশ ব্যবহার না করে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে মহাসড়কের কোথাও কোথাও গর্ত তৈরি হয়েছে। সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে মেরামত করা অংশগুলো টেকসই হচ্ছে না।