২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চবিদ্যালয়ে ১২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হয়নি। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া যায়।
বোর্ডের অধীন ২২টি বিদ্যালয়ে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয় রয়েছে। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া অন্য তিনটি বিদ্যালয় হলো—রাজারহাট উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চবিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।
জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চবিদ্যালয়ে এবার প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। ১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, দশম শ্রেণির একটি কক্ষে একা বসে আছে শিক্ষার্থী বাধন কুমার রায়।
বাধন কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা নিয়মিত আসেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আসে না। একসময় ক্লাসে শিক্ষার্থী ভরা থাকত। এখন কারও বিয়ে হয়ে গেছে, কেউ ঢাকায় কাজে গেছে। অন্যরাও স্কুলে আসতে চায় না।’
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে তালতলা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি জুনিয়র পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় বিদ্যালয়টি। এরপর এবারই প্রথম এখানকার শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ মোট শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। আগামী বছর প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা অজয় কুমার সরকার বলেন, মেয়েদের বাল্যবিবাহ এবং ছেলেদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। উপজেলা শহর থেকে বিদ্যালয়টি প্রায় চার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ভালো শিক্ষার্থীদের অনেকে শহরের বিদ্যালয়ে চলে যায়। এসব কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মানও ধরে রাখা যাচ্ছে না।
কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জেলায় মোট ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ হাজার ৬৪৭ জন। জেলায় পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন।
চার বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’