কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আমির হামজার গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াতে ইসলামী।রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘড়িয়ায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আমির হামজা অভিযোগ করেন, শনিবার বিকেলে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে শহরের ছয়রাস্তার মোড়ে গণ-অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় তিনি নিজে এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আমির হামজা বলেন, ‘শান্ত কুষ্টিয়াকে অশান্ত করা এবং আমার গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি ও আলেম হিসেবে জনগণের নিরাপত্তায় কাজ করাই আমার দায়িত্ব। কিন্তু যারা রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়, প্রকাশ্যে একজন সংসদ সদস্যের ওপর পরিকল্পিতভাবে আঘাত হানার দুঃসাহস দেখায়, তারা সমাজের শত্রু, কুষ্টিয়াবাসীর শত্রু।’
সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আমির হামজা। তিনি বলেন, ‘যে দেশে একজন এমপির নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা?’
হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পূর্বপরিকল্পিত এ হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত গণ-অধিকার পরিষদের চিহ্নিত ব্যক্তিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করে বলেন, স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জনগণের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে আমির হামজা বলেন, ‘আমি কুষ্টিয়া-৩ আসনের সর্বস্তরের জনগণকে ধৈর্য ও শান্তি বজায় রাখার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। তবে মনে রাখতে হবে, আমাদের এই ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবেন। যদি প্রশাসন অবিলম্বে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনে, তবে কুষ্টিয়ার শান্তিকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, হামলার ঘটনায় শনিবার রাতেই দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন মুফতি আমির হামজা।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি এজাহার পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, হামলার ঘটনার জেরে শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলা গণ-অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে আমির হামজার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।