মাদারীপুর সরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়ার কথা বলে ভর্তি হয়ে রাতে এক তরুণীকে কেবিনে নিয়ে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও কেবিন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে ওই তরুণী কীভাবে কেবিনে প্রবেশ করলেন, তা নিয়েও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার আয়নাল খানের ছেলে রাজিব ডায়রিয়ার কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে মধ্যরাতে এক তরুণী কৌশলে তার নেওয়া কেবিনে প্রবেশ করেন।
বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে হাসপাতালের নার্স ও নিরাপত্তাকর্মীরা খোঁজ নেন। একপর্যায়ে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রাজিব ওই তরুণীকে তার ‘গার্লফ্রেন্ড’ বলে পরিচয় দেন। তবে তরুণী নিজেকে রাজিবের বোন বলে দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের পরিচয় ও হাসপাতালে অবস্থানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে হাসপাতালের কেবিনে বাইরের একজন কীভাবে প্রবেশ করলেন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের নজর এড়িয়ে মধ্যরাতে সেখানে অবস্থান করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতালের কয়েকজন রোগী বলেন, তারা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। সেখানে যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যায়। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি নজরে আসার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি কেবিনে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, রোগীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই এবং মধ্যরাতে নিরাপত্তা নজরদারি আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল বলেন, ‘ছেলেটি একা এসে ডায়রিয়ার কথা বলে ভর্তি হয়েছিল। পরে মেয়েটি সুযোগ বুঝে কেবিনে ঢুকে যায়। বিষয়টি আমাদের নজরদারির বাইরে ছিল।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখা জরুরি। এ ধরনের ঘটনা এড়াতে হাসপাতালের কেবিন ও প্রবেশপথে নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।