মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. এছাহাক সরদার (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তার বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অর্ধশতাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে তিন যুবক আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কালকিনি পৌরসভার উত্তর জনারদন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে এছাহাক সরদারের বাড়িতে হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর জনারদন্দী গ্রামের নশাই সরদারের ছেলে এছাহাক সরদারের সঙ্গে একই এলাকার ঝালু মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার রাতে বাড়ির পাশের একটি দোকান থেকে একা বাড়ি ফেরার পথে ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে কয়েকজন তার গতিরোধ করেন। এ সময় তাকে কুপিয়ে জখম করার পর দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় এছাহাক সরদারকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার সকালে ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে দেলোয়ার হাওলাদারসহ কয়েকজন এছাহাক সরদারের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ। এ সময় দফায় দফায় অর্ধশতাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং দুটি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়।
হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে জাহিদ খান (২৫), রাজিব সরদার (২৫) ও নাজমুল বেপারী (২৩) আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত এছাহাক সরদারের স্বজন ইসমাইল অভিযোগ করে বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে ঝালু মোল্লা ও তার লোকজন এছাহাক সরদারকে কুপিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন। পরে আবার তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে বসতঘর ভাঙচুর ও অর্ধশতাধিক বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ঝালু মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এক ব্যক্তির পায়ের রগ কেটে দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।