বাগেরহাটের মোল্লাহাটে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে এখন আখের সবুজ সমারোহ। কম খরচে ভালো ফলন ও লাভের সম্ভাবনা থাকায় দিন দিন আখে চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
বিশেষ করে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা গ্রামে এবার আখের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য ও সহজ বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে এ অঞ্চলে আখের আবাদ আরও বাড়বে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারি সারি লম্বা আখের গাছ। বাতাসে দুলতে থাকা সবুজ আখের ক্ষেত দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পুরো মাঠ যেন সবুজ চাদরে ঢাকা। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখে লাভের সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় অনেক কৃষকই এ ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
গাড়ফা গ্রামের কৃষক হাফিজু চৌধুরী জানান, এবার তাদের এলাকায় আখের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আখের গাছগুলো সতেজ ও স্বাস্থ্যবান হয়েছে। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে এ বছর ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আখের বাজারদর ভালো থাকলে কৃষকদের মধ্যে এ ফসল চাষে আগ্রহ আরও বাড়বে। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আখ চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
একই গ্রামের কৃষক বোরহান বলেন, আগে তারা ধান চাষ করতেন। কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার আখ চাষ শুরু করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। পরিচর্যা ঠিকমতো করলে আখ থেকে ভালো আয় করা সম্ভব। তাই ভবিষ্যতেও আখ চাষ চালিয়ে যেতে চান তিনি।
কৃষকরা জানান, এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফিলিপাইন, রংবিলাস ও ঈশ্বরদী-৪৫সহ বিভিন্ন জাতের আখের আবাদ হয়েছে। এসব জাতের ভালো ফলন দেখে অন্য কৃষকরাও আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে ধীরে ধীরে এ ফসলের আবাদ বাড়ছে।
গাড়ফা গ্রামের বাসিন্দা আবু সাইদ বলেন, এবার মাঠজুড়ে আখের সবুজ সমারোহ দৃষ্টি কাড়ছে। আগে এ এলাকায় এত বেশি আখের আবাদ দেখা যেত না। এখন কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। লাভের সম্ভাবনা থাকায় আগামীতে নিজেদের জমিতেও আখ চাষের কথা ভাবছেন তারা।
আখের ক্ষেত দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা হামিম শেখ বলেন, ধানের জমির তুলনায় এবার আখের ক্ষেত বেশ ভালো হয়েছে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে এ অঞ্চলে আখ চাষ আরও বাড়বে। এতে কৃষকের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উন্নত জাতের ব্যবহার, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও নিয়মিত কারিগরি পরামর্শের কারণে মোল্লাহাটে আখ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং রোগবালাই দমন, সার প্রয়োগ ও পরিচর্যার বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, মোল্লাহাটে আখ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। উন্নত জাতের আখ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সময়ে সার ও সেচ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আখের ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব। উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য ও সহজ বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে এ অঞ্চলে আখের আবাদ আরও বাড়বে।