ব্যাংকে জমা রাখা কষ্টার্জিত টাকা ফেরতের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের উখিয়ার পালংখালী এজেন্ট শাখার গ্রাহকরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে পালংখালী স্টেশনে কয়েকশ গ্রাহক ‘আমাদের টাকা ফেরত চাই’, ‘প্রতারকের বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিলে উখিয়া ও টেকনাফমুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পালংখালী বাজারের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট মেসার্স ফরহাদ টেলিকমে গ্রাহকদের জমা করা কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভের একপর্যায়ে মাংস ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, ওই শাখায় তার ৯ লাখ টাকা জমা রয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে টাকা জমা রাখলেও প্রয়োজনের সময় তা তুলতে গেলে নানা অজুহাতে টাকা দেওয়া হয়নি। পরে হিসাব ও জমার রসিদ যাচাই করে অনেকেই হিসাবে বড় ধরনের গরমিল দেখতে পান।
গ্রাহক মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, তিনি ৬ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। অথচ তার হিসাবে রয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৮০ টাকা। আবুল মঞ্জুরের দাবি, ৪ লাখ টাকা জমার বিপরীতে হিসাবে রয়েছে মাত্র ৪০০ টাকা। আব্দুল কাদেরের সাড়ে ৫ লাখ টাকার বিপরীতে রয়েছে ১ হাজার টাকা। আরও কয়েকজন গ্রাহকও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।
গ্রাহকদের দাবি, মামলায় উল্লেখ করা ২১ জনের ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকার বাইরে আরও বহু গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা আটকে রয়েছে। হিসাবের বই ও জমার রসিদ জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা অন্য হিসাবে স্থানান্তরের অভিযোগও করেছেন তারা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পুলিশ এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন (৬৮) ও ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। ওইদিন রাতে ব্যবসায়ী আনোয়ার ফয়সাল আরিফ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে বিকেল ৫টার দিকে মহাসড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, এজেন্ট শাখা থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকা ফেরত পান।