ঝালকাঠি কালেক্টরেট চত্ত্বরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ও জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, যা অরক্ষিত রয়েছে। ফলে ভোরে কুকুরের বিশ্রাম কেন্দ্র, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আদালতে বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষমান স্থান, বিকেলে শিশুরা জুতা পায়ে স্তম্ভে উঠে খেলাধুলা করে, সন্ধ্যার পরে ধূমপায়ীদের আড্ডা বসে এখানে। তবে কেউই শ্রদ্ধা জানিয়ে স্তম্ভে খালি পায়ে ওঠে না। জুতায় ধুলাবালি নিয়ে উঠে যথেচ্ছো হাঁটাচলা করছে।
একই স্থানে গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্মৃতি স্তম্ভ অরক্ষিত থাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সচেতন মহলে। স্তম্ভ দুটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্কাস সিকদার।
ঝালকাঠি কালেক্টরেট চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ ও জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের পবিত্রতা রক্ষা ও সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপনের প্রার্থনা করে আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ঝালকাঠি কালেক্টরেট চত্বরে ২০০৪ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ এবং ২০২৫ সালে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে বসে অসংখ্য লোক সিগারেট ও অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে এবং আড্ডা দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের পবিত্রতা নষ্ট করছে।
তরুণরা স্মৃতিস্তম্ভের বেদি ও রেলিংয়ের ওপরে বসে ধূমপানসহ নানা অনৈতিক কাজ করে। ওই সব তরুণদের নিষেধ করলে তারা বলে এখানে বসে সিগারেট খাওয়া যাবে না তা কোথাও লেখা নেই। তাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও মাঝে মধ্যে টহল পুলিশের মাধ্যমে আড্ডা দেওয়া ব্যক্তিদের স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে বসে ধূমপান ও নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করা থেকে বিরত রাখার পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদানে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঝালকাঠি প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার বলেন, স্মৃতিম্তম্ভ দুটির কাছেই আমার চেম্বার। সন্ধ্যার পরে ওই জায়গাতে তরুণ-যুবকদের অবস্থান দেখলে নিজের মধ্যে কষ্ট লাগে। প্রতিবাদ জানিয়ে নিষেধ করলে তারা এমনভাবে কথা বলে যেন আমার ওপর আক্রমণ করবে। তাই স্তম্ভ দুটির পবিত্রতা রক্ষার্থে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছি জেলা প্রশাসকের কাছে।