শেরপুরের নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ওপর ছাত্রদল নেতার হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের ৬ দিন পেরিয়ে গেছে। তবু এখনও কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কলমবিরতি পালন করেন জেলায় কর্মরত কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় জেলার কৃষি বিভাগের দাপ্তরিক থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকে।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদীর ওপর ছাত্রদল নেতার ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অথচ ছয়দিন হলেও এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তারই প্রতিবাদে বিসিএস কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ বেলা ১১ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী কলম বিরতি পালন করা হয়েছে।
আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সারাদেশের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ব-স্ব অফিসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ছয়দিন হলেও এখন পর্যন্ত একজন আসামিও গ্রেপ্তার হয়নি, এটা দুঃখজনক। আমরা এই আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারেরর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, সারাদেশের কৃষি দপ্তরগুলো একযোগে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করতে বাধ্য হব।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করছি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করতে পারবো।
এর আগে, গত ৫ নভেম্বর কৃষি প্রণোদনার তালিকায় পছন্দের লোকদের নাম না থাকায় নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলা করে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়ুম ও তার সহেযাগীরা। ঘটনার সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন রাতেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী বাদী হয়ে কাইয়ুম ও তার সহযোগী ফজলুর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তারা দুজনই উপজেলার ধুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার পরে ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল রাহাত হাসান কাইয়ুমকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে বহিস্কার করেছে।