চট্টগ্রামে ‘ক্লুলেস’ হাসান তারেক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি জড়িত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ওরফে আলোকে (৪১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি পশ্চিম বিভাগের একটি বিশেষ টিম ১০ নভেম্বর রাতে চকবাজার থানার দামপাড়া এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালীর সুধারাম থানার মাসিমপুর এলাকা, তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের দামপাড়ায় বসবাস করছিলেন।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, নিহত হাসান তারেক (৩৯) চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসামিদের একটি বড় মাদক চালান পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই চালানের মালিক ছিলেন শওকত আকবর, আলাউদ্দিন আলো ও মোর্শেদ আলম ওরফে সোহেল। ওই ঘটনায় আলাউদ্দিন ও মোর্শেদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। জেল থেকে বেরিয়ে প্রতিশোধ নিতে তারা তারেককে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ আগে জামালখান এলাকার একটি গলিতে বসে আলাউদ্দিন, শওকত ও মোর্শেদ হত্যার পরিকল্পনা করেন।

গত বছরের ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাজীর দেউড়ী এলাকায় শওকত তার শ্যালক সাকিব ও সহযোগী ইকবাল হোসেন বাবুকে নিয়ে আলাউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন। তখন শওকত হত্যার খরচ হিসেবে ২০ হাজার টাকা আলাউদ্দিনকে দেন। এরপর তারা সবাই মিলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গরীবউল্লাহ শাহ (র.) মাজারের পাশে অবস্থান নেন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী হাসান তারেককে ধরে ফেলে।
পরে তাকে জোর করে সিএনজিতে তুলে বায়েজিদ লিংক রোডের নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত বেঁধে নাইলনের রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার প্রায় ২০ মিনিট পর তারা মরদেহটি খেজুরতলী রাসমনি ঘাটসংলগ্ন রানীপুকুরপাড় এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর অভিযুক্তরা ওয়াসাস্থ কুটুম বাড়ি রেস্টুরেন্টে গিয়ে রাতের খাবার খান। পরে আলাউদ্দিন ২০ হাজার টাকার মধ্যে থেকে সহযোগীদের মধ্যে টাকা ভাগ করে দেন। এর মধ্যে থেকে মোর্শেদকে পাঁচ হাজার, সাকিবকে দুই হাজার, ইকবালকে দুই হাজার এবং সিএনজি চালককে দুই হাজার টাকা দেন। এরপর প্রত্যেকে নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান।
গ্রেপ্তারের সময় আলাউদ্দিনের কাছ থেকে ১২ বোতল নিষিদ্ধ কোডিন ফসফেট ও ট্রিপোলিডিন সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, আলাউদ্দিন ওরফে আলো একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি ও মাদকসহ বিভিন্ন আইনে মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।