কলেজ প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর পর একাদশ শ্রেণি ও অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যারিয়ার গাইডলাইন এবং নবীনবরণ অনুষ্ঠান করেছে সরকারি ইন্দুরকানী কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ রাফি।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের সংগ্রামের মূল বিষয় ছিল—ঘুষ দিয়ে, কোটা দিয়ে নয়, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া। কেউ ঘুষ দিয়ে চাকরি নিলে সে পরবর্তীতে ঘুষ খাওয়ার মানসিকতা নিয়েই কাজ করে। যদি কোনো ব্যক্তি ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়, তাহলে তার মানসিকতা থাকে কীভাবে সেই টাকা উসুল করা যায়। সমাজে পরিবর্তন আনতে হলে সেই পরিবর্তন শুরু করতে হবে গোড়া থেকে, সাধারণ মানুষের ভেতর থেকেই।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রশিবিরের মতো এরকম সুন্দর একটি অনুষ্ঠান এর আগে কলেজে হয়নি। আমরা এই আয়োজন উপভোগ করতে পেরে খুবই আনন্দিত। তারা আমাদের বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণও দিয়েছে এবং ভালো ক্যারিয়ার গড়তে পরামর্শও দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরকারি ইন্দুরকানী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম ও সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি জুবায়ের হোসাইন।
উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ইন্দুরকানী কলেজ ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে এ রকম বড় কোনো আয়োজন করতে পারিনি। গত বছরের ৫ আগস্টের পর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে আজ এই আয়োজন বাস্তবে রূপান্তরিত হলো। কিছুদিন আগেও আমরা এই কলেজে একটি হেল্প ডেস্ক করেছিলাম। আমাদের এ ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে আর বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) এজিএস ফেরদৌস আল হাসান, সরকারি ইন্দুরকানী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জাকারিয়া হোসাইন, ছাত্রশিবিরের পিরোজপুর জেলা সভাপতি মো. ইমরান খান, ইন্দুরকানী উপজেলার সাবেক সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম রাতুল, উপজেলার সেক্রেটারি কে এম রাহাতুল ইসলাম প্রমুখ।