শহীদ ওসমান হাদিকে ভারত থেকে পরিকল্পনার করে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিএনপি মনোনীত ভোলা-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, হাদির হত্যাকারীদের স্থানীয় আওয়ামী লীগের এজেন্টরাই আবার নিরাপদে ভারতে ঢুকিয়ে দিয়েছে।
মেজর হাফিজ বলেন, সুতরাং জনমনে অনেক সন্দেহ রয়েছে। তারা আশঙ্কিত যে, আগামী নির্বাচনের এক-দেড় মাস সময় বাকি আছে। এসময় আরও হত্যাকাণ্ড চালাবার জন্যে মাফিয়াদের দল আওয়ামী লীগ সচেষ্ট থাকবে এবং তাদেরকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকেও সহায়তা দেওয়া হবে। ভারত আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তুলেছে দেশটির বিভিন্ন জায়গায়। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষদের হত্যা করে বিনা বাধায় তারা ফের ভারতে প্রবেশ করছে, এটি অত্যন্ত দু:খজনক। আমরা আশা করব, ভারত সরকার এ ধরনের হত্যাকারীদের ধরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। আমরা এটাও চাই, যে মাফিয়া নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ডগুলো চলছে তাকেও দেশে ফেরত পাঠাবে।’
শনিবার (০৩ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের হলরুমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোলা-৩ আসনের (তজুমদ্দিন-লালমোহন) প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মেজর হাফিজ বলেন, নির্বাচনের জন্য জনগণ দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করে আছে। কারণ, গত ১৬ বছর বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিতে পারেনি। ১৬ বছর আগে যে তরুণ যুবক হয়ে ভোটার হয়েছে, সে ১৬ বছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে স্বৈরশাসকের কারণে। মাফিয়া নেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, সুতরাং জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। প্রত্যেকটি ভোটার আশান্বিত তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। এটি আমার জীবনে দশম নির্বাচন। প্রথম ছয়টিতে বিজয়ী হয়েছি। পরেরগুলোতে নিজের ভোটও দিতে পারিনি। আশা করি, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে উপহার দিতে পারবে এবং বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, দুঃখের বিষয় হলো, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী ও একমাত্র অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়া লোকান্তরিত হয়েছেন এবং তার জানাজায় যে বিশাল জনসমাগম হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে তার নজির নেই। দেশের জনগণ তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিদায় দিয়েছে, এজন্য আমরা গর্বিত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জনগণের ভোটে চারবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আশা করি, এবারও জনগণ আমাদের উপর আস্থা রাখবে। গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গত ১৬ বছর লড়াই করেছি,বিএনপির বহু নেতাকর্মী গুম-খুন হয়েছে।’ এছাড়া ২০২৪'র গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ভোলা-৩ সংসদীয় আসনে মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা.শামীম রহমান। এছাড়া বিএনপির মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মুহা.নিজামুল হক, ইসলামী আন্দোলনের মো.মোসলেহ উদ্দীন, জাতীয় পার্টির মো. কামাল উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের মো.আবু তৈয়বের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।