সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডেও। এতে করে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা। আতঙ্কে অনেকেই কৃষি জমি, মৎস্য ঘের কিংবা নদীতে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না। সীমান্তবাসীর একটাই প্রশ্ন-এই পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি মিলবে? এদিকে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বানের পাশাপাশি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের টেকনাফ উপজেলার লম্বারবিল। এ এলাকায় এক সময় ভোর হলেই কৃষক ও জেলেদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকত। কৃষি জমিতে চাষাবাদ, মৎস্য ঘেরে শ্রম আর নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত থাকতেন মানুষজন।
কিন্তু এখন সেই লম্বারবিল যেন একেবারেই নিস্তব্ধ। মাঠে নেই কৃষক, ঘেরে নেই শ্রমিক, নদীতে নেই জেলেদের আনাগোনা। সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে এপারের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে অনেক সময় গুলি ও মর্টারের গোলা এসে পড়ছে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের। বন্ধ হয়ে গেছে কাজকর্ম, হুমকিতে পড়েছে শিশুদের পড়ালেখাও।
লম্বারবিল সীমান্তের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, 'মিয়ানমারের গোলাগুলির ভয়ে জমিতে যেতে পারছি না।'
একই কারণে নাফ নদীতেও মাছ শিকারে নামতে পারছেন না অনেকেই। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি। আরেক বাসিন্দা শাহীন আলম বলেন, ‘কোনো কাজকর্মই করা যাচ্ছে না। ঘর থেকে বের হতেও ভয় লাগে। যেভাবে গোলাগুলি হচ্ছে, মনে হয় যেকোনো সময় গুলি এসে শরীরে লাগতে পারে।’
রমিজ উদ্দিন নামের ব্যক্তি বলেন, ‘গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছি না। কারণ, গুলি যদি বাচ্চাদের গায়ে লাগে, তখন কী হবে; এই ভয় চারদিক থেকেই তাড়া করছে।’
এদিকে স্থানীয়রা জানান, মাঝে মধ্যে গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণ বন্ধ হলেও আবার নতুন করে শুরু হয়। এর ফলে টেকনাফ সীমান্তের তিনটি ইউনিয়নের বহু বাসিন্দা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
টেকনাফ আমতলী সমাজ কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় অসংখ্য চিংড়ি ঘের, চাষের জমি ও লবণের মাঠ রয়েছে। কিন্তু, মিয়ানমারের গোলাগুলির ভয়ে সেখানে যাওয়া যাচ্ছে না। রোহিঙ্গা, জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির কারণে সীমান্তের মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে টেকনাফের তিনটি ইউনিয়নের সীমান্তবাসীরা ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।’
এদিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। টহল জোরদারের পাশাপাশি আধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জানতে চাইলে বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিজিবি সতর্ক অবস্থায় আছে এবং জনগণকেও সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। সীমান্ত বেড়িবাঁধ ও সীমান্ত সড়কে সর্বোচ্চ অ্যালার্ট অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। পরিস্থিতি আর খারাপ হবে না, বরং উন্নতি হবে।’