সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন রোগীরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকা গ্রহণ না করলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও জেলার কোথাও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আসা একাধিক রোগী ও স্বজন জানান, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ফার্মেসিতেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরে যেখানে ৫০০ টাকায় টিকা পাওয়ার কথা, সেখানে এক হাজার টাকা দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন মিলছে না।
খোকসাবাড়ি এলাকা থেকে আসা এক রোগীর স্বজন কাদের মিঞা বলেন, সিরাজগঞ্জের কোথাও টিকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ঢাকা থেকে এনে দিতে হয়েছে।
জলাতঙ্ক টিকা প্রদানকারী নার্স আয়শা জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর থেকেই সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন শেষ। বিষয়টি জানিয়ে ঢাকায় একাধিকবার চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রতিদিন শত শত রোগী টিকা নিতে এলেও তাদের ফেরত যেতে হচ্ছে। আগে রোগীরা বাইরে থেকে টিকা কিনে আনতেন, কিন্তু এখন বাইরে থেকেও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা ভ্যাকসিন স্টোর কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, এক মাস আগে ৫০০ ডোজ ভ্যাকসিন এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার সিভিল সার্জনের নির্দেশে প্রতিটি উপজেলায় ৫০ ডোজ করে ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিনশ থেকে চারশ কুকুর, বিড়াল ও সাপের কামড়ের রোগীর জন্য ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। অথচ সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে আসা আমেনা খাতুন বলেন, ‘আমার মেয়েকে বিড়াল আঁচড় দেওয়ায় বাইরে থেকে দ্বিগুণ দামে ভ্যাকসিন কিনতে হয়েছে।’
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আকিকুর নাহার বলেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেই। সরকারি-বেসরকারি কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। পল্লী এলাকার দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।কয়েক দফা ঢাকায় চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।’
এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, সাময়িকভাবে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে কবে নাগাদ টিকা মিলবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তা ঠিক নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।