নির্বাচনি হালচাল (কুষ্টিয়া-২)
কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর এবং ভেড়ামারা এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-০২ আসনটি। ৩১৭.৩৫ র্বগকিলোমিটার আয়োতনের মিরপুর এবং ১৫৩.৭১ র্বগকিলোমিটার আয়োতনের ভেড়ামারা উপজেলার মোট ১৯টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠতি এই আসনরে মোট ভোটার সংখ্যা ৪৭৭৯৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২৩৮৮৭২ জন এবং পুরুষ ভোটার ২৩৯১২০ জন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ, জাসদ সভাপতি হাসানুল ইনু এবং জাপা(জাফর) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, এবং বিএনপির তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় এবং হেভিওয়েট নেতার বাড়ি এই নির্বাচনি এলাকায় হওয়ায় এই আসনটি রাজনীতির মাঠে বেশ আলোচিত।
যদিও গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মাহাবুব উল আলম হানিফ পালিয়ে যান এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এখন কারাগারে।
তারপরেও আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে বিএনপি এবং জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস জেলার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সঞ্চার করছে।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ চৌধুরীরর ছেলে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা। সৎ এবং ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে তার সুনাম রয়েছে।
শুরু থেকেই আসনটিকে বলা হতো বিএনপির ঘাঁটি। বিশেষ করে মিরপুর উপজেলায় আছে এই দলে বিশাল ভোট ব্যাংক। কিন্তু, এবার ছেড়ে কথা বলছে না জামায়াত ইসলাম। সাবেক মিরপুর উপজেলার চেয়ারম্যান এবং ক্লিন ইমেজের জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল গফুরের জনপ্রিয়তাও আছে চোখে পড়ার মতো।
১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ আসনটি ছিল বিএনপির দখলে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের পক্ষে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এই আসনে মনোনয়ন পান। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপির তৎকালীন সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে বড় ব্যাবধানে পরাজিত করেন ইনু। ইনুর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বদলে যায় এই আসনের পেক্ষাপট। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তৎকালিন ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ ও জাসদ নেতাকর্মীরা।
সেই দ্বন্দ্ব জ্বালাও পোড়াও থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত গড়িয়েছিল। যার ফলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার পরও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামারুল আরেফীনের কাছে পরাজিত হন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হিসেব-নিকাশ একটু ভিন্ন।নেতাকর্মীরা পালিয়ে গেলেও এই আসনে আওয়ামী লীগ এবং জাসদের উল্লেখযোগ্য পরিমান ভোট আছে। তাই বিভিন্ন কৌশলে সেসব ভোটের হিসেব রাখছেন প্রধান দুই দলের প্রার্থী। সেই সঙ্গে ভোটারদের মন জয় করতে তারা দিচ্ছেন নানান ধরনের প্রতিশ্রুতি।
বিএনপির প্রার্থী ব্যারিষ্টার রাগিব রউফ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি একটি বিশাল দল। এই দলে প্রতিযোগিতা আছে এবং থাকবে। কিস্তু কোনো বিরোধ বা বিভক্তি নেই। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও অধিকার আদায়ের জন্য এই নির্বাচন। আমরা বিশ্বাস করি, কুষ্টিয়া-২ আসনের মানুষ ধানের শীষের পক্ষে রায় দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করবে ইনশাআল্লাহ।’
নির্বাচনকে কেন্দ্র দিন রাত ভোটারদের দারে দারে ঘুরছেন জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর গফুর। তিনি মিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ভালো মানুষ হিসেবে তার সুনাম এলাকাজুড়ে। সেই সঙ্গে মিরপুর উপজেলায় আছে জামায়াতের নিজস্ব ভোট ব্যাংক। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে বিপুল ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ। তাই আসনটিতে পুনরায় জামায়াতকে উপহার দেওয়ার জন্য দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী আব্দুল গফুর।
জামায়াত প্রার্থী আব্দুল গফুর বলেন, ‘দীর্ঘদিন মানুষ তাদের ভোট দিতে পারেননি।এবার তারা ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবারে এই আসন থেকে বিপুল ভোটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নির্বাচিত হবে।’
এছাড়াও এই আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী নূর উদ্দীন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আব্দুল হামিদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আরিফুজাম্মান, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী বাবুল আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।