চট্টগ্রামের একটি আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী একদিনের ব্যবধানে পরপর দুইবার মতবিনিময় সভা ডেকে তা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময় ও স্থানে উপস্থিত হয়েও মতবিনিময় না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, জসিম উদ্দিন আহমেদের গত ১৫ বছর ধরে বিএনপিতে কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছিল না। তবে ওই সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও রাজনীতিবিদর সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি সরব ছিল। ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ছবিও।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নগরের জামাল খান দাওয়াত রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। ওই প্রার্থীর নাম আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমদ। তিনি চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে লড়বেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়ক এম.এ হাশেম রাজুর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর জামালখান এলাকায় ‘দাওয়াত রেস্টুরেন্ট’-এ চট্টগ্রাম-১৪ সংসদীয় আসন-২৯১ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমদের উদ্যোগে আপনাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মতবিনিময় কাভারেজ করতে একজন রির্পোটার ও একজন ফটোসাংবাদিক প্রেরণ করার অনুরোধ জানানো হলো।
সাংবাদিকরা জানান, আগাম ঘোষণা দিয়ে মতবিনিময় সভা আহ্বান করার পর তা বারবার স্থগিত বা প্রত্যাহার করা মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। একজন দায়িত্বশীল প্রার্থীর কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। এতে সাংবাদিকদের সময় ও শ্রম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পেশাগত কাজেও বিঘ্ন ঘটে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেক সাংবাদিকই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ প্রার্থীর এমন আচরণকে ‘অপরিপক্ব’ ও ‘অদায়িত্বশীল’ বলে মন্তব্য করেন। তাদের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন বাতিলের বিষয়টি আগে থেকে জানানো হলে এই ভোগান্তি এড়ানো যেত।
আবার, একইদিনে সকালে সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে অনুষ্ঠানে গেলে এম এ হাশেম রাজু পক্ষ থেকে বলা হয়, দুপুর তিনটায় সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা করা হয়। পরে ওই সময় সবাই গেলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন প্রার্থীর কারণবশত সংবাদ সংম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। পরে দুঃখপ্রকাশ করে সাংবাদিক আপ্যায়নের অফার করলে সাংবাদিকরা নাচক করে চলে যান।
এর আগে, গত ১৬ জানুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বদুরপাড়া এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটপ্রাপ্ত বীর হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মাঈনউদ্দীন নামের আরও এক যুবক আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কর্মসূচির যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বেশ কয়েকজন জুলাইযোদ্ধা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জুলাইযোদ্ধা জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিতর্কিত প্রার্থী জসিম উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল ও গ্রেপ্তারের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে জুলাইযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই স্মারকলিপি প্রদানের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জসিম উদ্দিন আহমেদকে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন দেওয়ার খবরে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এরপরই স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জসিম উদ্দিন আহমেদের কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া তিনি ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র হত্যাচেষ্টা মামলায় গত বছরের ৪ ডিসেম্বর খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ এলাকার হোটেল লা-মেরিডিয়ানের পাশের সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরের দিন ৫ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল হোসেন তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯০ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়। মামলার এজাহার নামীয় ২১ নম্বর আসামি জসিম উদ্দিন আহমেদ।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রার্থী আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমদের ব্যক্তি সহকারী রাব্বিকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি অপরজনের কাছে বিষয়টি জানতে চেয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে কল দিলেও তিনি আর ধরেননি।
জানতে চাইলে প্রার্থী আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আপাতত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় হচ্ছে না। তবে আরও বৃহৎ পরিসরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে, তাই আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।’
দুইবার ডেকে আগে না জানিয়ে স্থগিত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি (প্রতিবেদককে) কোথায় আছেন, একটু কস্ট করে দাওয়াত রেস্টুরেন্টে আসেন।’ এটা বলেই তিনি ফোন রেখে দেন।