নির্বাচনী হালচাল (খুলনা-৩)
খুলনার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত খুলনা-৩ সংসদীয় আসনটি গঠিত হয়েছে খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকা নিয়ে। ভৈরব নদের তীর ঘেঁষা এই এলাকা একসময় ছিল শ্রমিক অধ্যুষিত। খুলনা বিসিক শিল্প নগরীসহ অসংখ্য রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি মিল-কারখানাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এখানকার অর্থনীতি। ফলে নির্বাচন এলেই শ্রমিক সমাজই ছিল বড় ভোটব্যাংক। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে একের পর এক পাটকল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক এখন বেকার। তারপরও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই বেকার শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ভোটই হতে পারে জয়-পরাজয়ের অন্যতম নিয়ামক।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, খুলনা-৩ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ জন। এর মধ্যে হিজড়া ভোটার রয়েছেন সাতজন। বর্তমানে এ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান মিঠু।
বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘খুলনা ছিল শ্রমিকের শহর। কিন্তু আওয়ামী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে একের পর এক মিল বন্ধ হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেব, নতুন কারখানা স্থাপন করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। ইসলামি শ্রমনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের মর্যাদা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। বন্ধ মিলগুলো চালুর পাশাপাশি যুবকদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান মিঠু বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজই দরকার। আমি নির্বাচিত হলে খুলনায় শিল্প বিনিয়োগ আনতে কাজ করব। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তুলে বেকারত্ব কমানো হবে।’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় শ্রমিক অধ্যুষিত এই এলাকা এখন অনেকটাই নিস্তব্ধ। বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর বেশির ভাগই এই সংসদীয় এলাকায় অবস্থিত।
একসময় খালিশপুর প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক মেহেদী হাসান বলেন, ‘খালিশপুরে এখন আর কিছু নেই। হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার নিয়ে চলে গেছে। কাজ নাই। কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। আমরা চাই মিল চালু হোক। আমরা কাজ চাই।’
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বন্ধ মিল-কারখানার বেকার শ্রমিক ও তাদের পরিবার, নারী শ্রমিকদের দাবি, তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি, আঞ্চলিকতা এবং দলীয় ভোটব্যাংক— সব মিলিয়েই খুলনা-৩ আসনের ফল নির্ধারিত হবে।