শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪২) মারা গেছেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে মারা যান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের দলটির প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল।
নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদরাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন।
এর আগে বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে তুচ্ছ ঘটনার জেরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। ওই সময় শ্রীবদরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারিসহ দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন।
ঝিনাইগাতী স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের সমর্থকরা চেয়ার ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহকালে দুজন সাংবাদিকও আহত হন এবং তাদের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নূরুজ্জামান বাদল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। যদি আমরা বিচার না পাই তাহলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’