বরিশালে দক্ষিন জেলা বিএনপির সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করা গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাষ্টার জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে বরিশাল-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান মাষ্টারের উঠান বৈঠকে গিয়ে তিনি দলটিতে যোগ দেন। এ সময় তার সঙ্গে তিন শতাধিক অনুসারী ছিলেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, সাবেক বিএনপি নেতার দলে যোগদান বানারীপাড়া উপজেলায় জামায়াতের অবস্থান সুসংসহত করেছে। জামায়াত নেতাকর্মীরা গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাষ্টারকে পেয়ে উজ্জীবিত হয়েছেন।
জামায়াতে যোগদান করে গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাষ্টার সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর বিএনপির অর্ধেক শেষ হয়ে যায়। বেগম খালেদা জিয়া মারা যাওয়ার পর বিএনপির বাকি অর্ধেকও শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে বিএনপির লেবেল আছে। বিএনপির লেবেলের মিথ্যার রাজনীতিতে আমি আর নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চাই না। যে দলের মধ্যে লুটেরা, চাঁদাবাজ, মাদকসেবী, দখলবাজ আছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। জামায়াতের মধ্যে এসব নেই। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য তারা জীবন বাজি রাখে। সেই সত্যের সৈনিক হওয়ার জন্য জামায়াতে যোগ দিয়েছি।’
অন্যদিকে বরিশাল-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী আব্দুল মান্নান বলেন, ‘গত ৫ আগষ্টের পর দেশের মানুষের কাছে আমরা আমাদের তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে সমাজ গঠনের জন্য বিভিন্ন দল থেকে এসে সবাই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত হবে। এটা বরিশাল-২ আসনের বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা থেকে শুরু হয়েছে।’
এ বিষয়ে বরিশাল-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুকে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
এর আগে বৃহস্পতিবার বরিশালের দক্ষিন জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে দল থেকে পদত্যাগ করার পত্র জমা দেন গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাষ্টার। পরে তিনি পদত্যাগপত্র নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, চার দশক ধরে সুনাম ও নিষ্ঠার সঙ্গে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন নিবেদিত প্রাণ ও কর্মী হিসেবে রাজনীতি করেছেন। এ দীর্ঘ সময় বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি মামলা-হামলা, জেল, জুলুম, নীপিড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিজ দলে লাঞ্চিত, বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তাই দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।
নাম উল্লেখ না করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘একজন নেতার ভয়ঙ্কর ইগো আর কতিপয় দালালের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শহীদ জিয়ার গড়া দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে অব্যাহতি নিলাম।’