নির্বাচনী হালচাল (সিরাজগঞ্জ-৫)
তাঁতশিল্পে সমৃদ্ধ হলেও ভয়াবহ নদীভাঙনের চিরচেনা বাস্তবতা বুকে ধারণ করে গড়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জ-৫ সংসদীয় আসন। বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে এবার নির্বাচন লড়াই জমে উঠেছে নদীভাঙন, তাঁতশিল্প, বেকারত্ব ও সুশাসনের প্রশ্নে।
আসনটিতে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল ভোটের লড়াই চলছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনের একটি বড় অংশই চরাঞ্চলভিত্তিক। এখানকার ভোটারদের প্রতিদিনের জীবন সংগ্রাম নদীর সঙ্গে— একদিকে যমুনার ভাঙন, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের সংকট।
ভোটাররা বলছেন, যিনি তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন,তাকেই তারা ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে চান।
চৌহালী উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘আমরা নদীভাঙন এলাকার মানুষ। সব দিক থেকেই বঞ্চিত। যে প্রার্থী আমাদের পাশে থাকবে, আমাদের কষ্ট বুঝবে— আমরা তাকেই ভোট দেব।’
বেলকুচি উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বেলকুচি তাঁতসমৃদ্ধ এলাকা হলেও নদীভাঙন, বেকারত্ব আর শিক্ষার মান নিয়ে আমরা চিন্তিত। যে প্রার্থী এসব সমস্যার সমাধান করবে, তাকেই আমরা নির্বাচিত করব।’
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৩২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৮ হাজার ৬৬৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৬৫৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিম বলেন, ‘নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং তাঁতশিল্পকে বাঁচাতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা বাড়ানো হবে। আমি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি, তারা আশ্বাস দিচ্ছেন। আমি আশাবাদী, সুষ্ঠু ভোট হলে জনগণই আমাকে নির্বাচিত করবে।’
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ হাজী মো.আলী আলম বলেন, ‘নির্বাচিত হলে বেলকুচি ও চৌহালীকে আধুনিকতার পথে এগিয়ে নেওয়া হবে, যেন এই অঞ্চলের মানুষ আর অবহেলিত না থাকে।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নূরনবী সরকার বলেন, ‘আমরা চাই অবশিষ্ট সময়টুকুতে একটি সুষ্ঠু লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থাকুক। সেটি নিশ্চিত হলে জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’
এদিকে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুরো আসনজুড়ে চলছে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও নির্বাচনি আলোচনা। প্রতিটি হাট-বাজার, চর ও মহল্লায় প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ।
শেষ পর্যন্ত নদীভাঙন মোকাবিলা, তাঁতশিল্প রক্ষা, বেকারত্ব দূরীকরণ ও সুশাসনের প্রশ্নে ভোটাররা কার ওপর আস্থা রাখেন— সেটিই নির্ধারণ করবে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচনী ফলাফল।