বাগেরহাটের শরণখোলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের ১নং সোনাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর সাব্বির, তরিকুল, সোবহান, নাজমা ও ফরিদাসহ মোট ১৫ জন আহত হন। অপরদিকে বিএনপির রফিকুল ও ছিদ্দিকসহ চারজন আহত হয়েছেন।
এদিকে একই দিন বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশ থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ নাহিদ নামের এক যুবককে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। তার কাছ থেকে একটি রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার হাড়িখালী কাঠের পোল এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বেলা ১১টায় লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আব্দুর রউফ (এন) এবং মেজর আশরাদের নেতৃত্বে বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়।
তল্লাশিতে দোকান থেকে ছয়টি হাসুয়া, তিনটি করাত, তিনটি চাকু এবং সাতটি লোহার হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আব্দুর রউফ বলেন, আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব দেশীয় অস্ত্র মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী বলেন, ‘অপরাধের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। কেউ কোনো ধরনের অপরাধের চেষ্টা করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মো. বাতেন বলেন, শরণখোলায় একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।