১২০ কোটির আবাসন ফাঁদ!
মাথার ওপর একটি ছাদের স্বপ্ন দেখিয়ে মধ্যবিত্তের সারাজীবনের সঞ্চয় লুটে নেওয়ার তথ্য ফাঁস হয়েছে। আবাসন ব্যবসার আড়ালে প্রায় ৪৭০ গ্রাহকের ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হওয়া হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের ডিএমডি হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার রাতে বিদেশ থেকে ফেরার কালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্র জানায়, উত্তরখান এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর নয় তলা ভবনের শেয়ার বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে মাঠে নামে এই প্রতারক চক্র। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে তারা আকর্ষণীয় প্রচারণা চালায়। উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে অফিস খুলে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। মানি রিসিট ও চেক প্রদান করা হলেও পরবর্তীকালে গ্রাহকদের নামে জমি রেজিস্ট্রেশন না দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে তারা।
সিআইডির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের এমডি শিশির আহমেদ ও ডিএমডি হায়দার কবির মিথুনসহ এই চক্রটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া থ্রি-স্টার হোটেল এবং মৌজার জমির ভুয়া শেয়ার দেখিয়ে ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে কৌশলে গা ঢাকা দেয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তারা। এক পর্যায়ে কোম্পানিটি একটি ভুয়া ‘নতুন পরিচালনা পর্ষদ’ গঠন করে নোটিশ দেয়, তারা আগের কোনো আর্থিক লেনদেনের দায়ভার গ্রহণ করবে না।
মামলা দায়েরের পর ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন নিজের ব্যবহৃত সব মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিয়ে কৌশলে বিদেশে পাড়ি জমান। দীর্ঘ আত্মগোপন শেষে দেশে ফেরার চেষ্টা করলেই বিমানবন্দরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম এবং যাত্রাবাড়ী থানাসহ বিভিন্ন আদালতে অন্তত ৫টি মামলা বিচারাধীন, যার অধিকাংশতেই আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
সিআইডির তদন্ত বলছে, এই প্রতারণার নেপথ্যে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের এমডি শিশির আহমেদ, ফিন্যান্স ডিরেক্টর হাবিবুল্লাহ বাহার এবং আইটি ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জাহিদ। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত চাইলে অফিস থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের ডিএমডি হায়দার কবির মিথুনকে রিমান্ডে নিয়ে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।