নৃশংস ঘটনায় এলাকাবাসীর আতঙ্ক, হত্যাকারী এখনও পলাতক
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (তারিখ) গভীর রাতে, হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামে। স্থানীয়রা জানান, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রোকেয়া বেগমের ঘর থেকে উচ্চস্বরে আর্তনাদ শোনা যায়। প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
শরীরের বিভিন্ন অংশে ছিল ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত।
তার গলায়, ঘাড়ে ও বুকে একাধিক কোপের চিহ্ন ছিল। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক পটভূমি:
নিহত রোকেয়া বেগম স্বামী পরিত্যক্তা। তার দুই ছেলে থাকলেও একজন প্রবাসে ও আরেকজন ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি একা ওই বাড়িতে থাকতেন এবং প্রতিবেশীদের সহায়তায় দিন যাপন করতেন। এলাকাবাসী বলছে, রোকেয়া বেগম ছিলেন ধর্মপরায়ণ ও শান্ত-শিষ্ট নারী। কারও সঙ্গে তার বিরোধ ছিল না। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
তদন্তের অগ্রগতি:
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান,
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যাকারীরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, “অপরাধীরা পেশাদার ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিআইডি ও পিবিআই-এর একটি দল আলামত সংগ্রহে মাঠে নেমেছে। কয়েকটি সূত্র ধরে তদন্ত চলছে।” এ ঘটনায় এখনো কোনো আসামিকে আটক করা যায়নি, তবে একাধিক সন্দেহভাজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক:
ঘটনার পর পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার নারীরা রাতে ঘরে একা থাকতে ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। যদি একজন বৃদ্ধা ঘরে নিরাপদ না থাকেন, তবে আমরা কে নিরাপদ?” গ্রামবাসীরা রাতে স্বেচ্ছাশ্রমে পাহারা দেওয়া শুরু করেছে এবং থানায় অতিরিক্ত পুলিশের টহলের দাবি জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক অপরাধ প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ:
চাঁদপুরে গত এক মাসে এই নিয়ে তৃতীয় হত্যাকাণ্ড ঘটল। এর মধ্যে দুইটি ঘটনায় ছিল পারিবারিক বিরোধ, আর একটি ঘটনায় সন্দেহভাজন ডাকাতির চেষ্টার অংশ ছিল। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন,
সাম্প্রতিক অপরাধ প্রবণতা উদ্বেগজনক। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নজরদারি ও কমিউনিটি পুলিশিং আরও জোরদার করা উচিত।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি:
বুধবার সকালে নিহত রোকেয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইদিন দুপুরে স্থানীয় যুব সমাজ ও নারীরা রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
তারা বলেন, “শুধু তদন্ত নয়, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে।”