ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি যে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে, সেখানে দেশের বর্তমান ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি’ পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নির্ণয় করে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যকে বাস্তবায়নযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকায় সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজিস, বাংলাদেশের আয়োজিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলার আকারে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণে বাস্তবসম্মত ও পরিমিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। সরকার যে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির কথা বলছে, সেটি মূলত নমিনাল জিডিপির হিসেবে নির্ধারিত—এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বিবেচনায় রাখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সিপিডি আগামী তিন বছরের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে একটি ‘রিয়েলিস্টিক কিন্তু অ্যাম্বিশাস’ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমানে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশের আশেপাশে থাকায়, এই হার ধীরে ধীরে বাড়িয়ে একটি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পথ তৈরি করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে ৬ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা গড়ে তুলতে পারলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।
তৌফিকুল ইসলাম খান ব্যাখ্যা করেন, নমিনাল ও রিয়েল প্রবৃদ্ধির মধ্যে পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির (প্রায় ৮ শতাংশ বা তার বেশি) কারণে ৫ শতাংশ রিয়েল প্রবৃদ্ধি বাস্তবে নমিনালে প্রায় ১৩ শতাংশের মতো হতে পারে। তবে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের (ডিপ্রিসিয়েশন) প্রভাব বিবেচনায় নিলে এই হার কিছুটা কমে আসবে। তার হিসাব অনুযায়ী, গড়ে প্রায় ৯ শতাংশ নমিনাল প্রবৃদ্ধি ধরে রাখলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী নয়, তবে তা অর্জনের মূল শর্ত হলো প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এজন্য শক্তিশালী ম্যাক্রো-ইকোনমিক ভিত্তি, কাঠামোগত সংস্কার এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকটসমূহ মোকাবিলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, দ্রুতগতির প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে শুরুতে অর্থনীতিকে কিছুটা সংহত করে, স্থিতিশীল ভিত্তি তৈরি করা জরুরি। অর্থাৎ প্রথমে পরিস্থিতি সামলে নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানোই হবে কৌশলগতভাবে সঠিক পথ।
উল্লেখ্য, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বিএনপি তার নির্বাচনি ইশতেহারে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর এবং এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল ক্ষমতা পরিচালনা নয়, বরং পদ্ধতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।