কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তিন দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। স্পট মার্কেট থেকে কেনা ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) এলএনজিবাহী একটি কার্গো নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই এসে পৌঁছানোর পর টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহও বাড়তে শুরু করেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, প্রায় তিন দিন আগে কার্গোর অভাবে এক্সিলারেটের টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যায়। এরপর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে গ্যাস সংকটে এর প্রভাব পড়ে।
এর আগে পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, এক্সিলারেটের টার্মিনালের জন্য পরবর্তী এলএনজি কার্গো রোববার আসতে পারে। ফলে তার আগে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের উন্নতির সম্ভাবনা কম ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন কার্গো পৌঁছানোয় পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) মো. শোয়েব বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, এক্সিলারেটের পরবর্তী এলএনজি কার্গো রোববার আসার কথা। তবে কার্গো পৌঁছানোর পর এলএনজি খালাস এবং তা গ্যাসে রূপান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে। ফলে কার্গো আসার সঙ্গে সঙ্গেই টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে না।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের টার্মিনালের জন্য আনা আরেকটি এলএনজি কার্গো ভিড়েছে। এতে ওই টার্মিনালে এলএনজির মজুত বেড়েছে। তবে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামিটের টার্মিনাল আগে থেকেই সর্বোচ্চ সক্ষমতায় দৈনিক প্রায় ৫৭ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। তাই নতুন কার্গো এলেও তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সুযোগ নেই।
এক্সিলারেটের টার্মিনালে বুধবার দুপুরের পর সরবরাহযোগ্য এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়। তবে সামিটের অন্য টার্মিনাল থেকে সরবরাহ অব্যাহত ছিল।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ছিল ১৬২ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। সব মিলিয়ে গ্যাস সরবরাহ দাঁড়ায় ২১৯ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে এই টার্মিনালটি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পায়।
পরবর্তীতে মেরামত শেষে এক্সিলারেট টার্মিনাল আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু করলেও গত সপ্তাহে এলএনজির মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় তা আবারও বন্ধ হয়ে যায়। আজ টার্মিনালটি পুনরায় সচল হওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটে ভুগতে থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং শিল্প-কারখানাগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।