বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে সে বিষয়ে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে সেই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে। অনলাইনেও ক্লাস নেওয়া হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত হবে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে। এর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভবত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর মন্ত্রিসভা বৈঠকে যাবে। মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংবাদ সম্মেলন করবে। এর মাঝে আমাদের বলার কিছু থাকবে না।’
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘আমরা আলোচনা করছি অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোকে উৎসাহিত করার। যেহেতু বিশ্বব্যাপী সংকট (জ্বালানি সংকট), তার মানে বাংলাদেশেও সংকট। আমরা কেউ জানি না, কতদিন এই সংকট চলবে। সে কারণে আমরা দেশের স্কুলব্যবস্থাকে অনলাইন ও সশরীর—এই মিশ্র পদ্ধতিতে আনার কথা ভাবছি।’
সাধারণত প্রতি বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। সেই হিসাবে পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠক আগামী ৯ এপ্রিল। গত বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। এটি রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধেরও সিদ্ধান্ত হয়, যা রোববার পরিবর্তন করে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কিনতে ঋণ দেওয়া বন্ধ, জ্বালানি বরাদ্দের ৩০ শতাংশ কমানোসহ আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী রোববার থেকে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হবে।