বিএসপিইউএ ওয়েবিনার
গবেষণার গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত করতে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জার্নাল এবং প্রকাশকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষণা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সোসাইটি ফর প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি একাডেমিকস (বিএসপিইউএ) আয়োজিত ‘রিসার্চ ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড আর্টিকেল রিট্র্যাকশনস’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান। জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এ ওয়েবিনারে দেশ-বিদেশের প্রায় ২০০ শিক্ষক ও গবেষক অংশ নেন।
ওয়েবিনারে গবেষণা নৈতিকতা, গবেষণাপত্র প্রত্যাহার, দায়িত্বশীল প্রকাশনা এবং গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জার্নাল ও প্রকাশকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এমেরিটাস এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সাদ আন্দালিব মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশ নেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. তামিম, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও বিএসপিইউএর সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী এবং ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ফ্যাকাল্টি অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ডিজিটাল ইনোভেশনের ডিন অধ্যাপক ড. সৈয়দ আখতার হোসেন। সঞ্চালনা করেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মামুন হাবিব।
বক্তারা বলেন, গবেষণাপত্র অসদাচরণের কারণে যেমন প্রত্যাহার হতে পারে, তেমনি অনিচ্ছাকৃত ভুল, পদ্ধতিগত ত্রুটি, লেখকত্ব-সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা সম্পাদকীয় ও পিয়ার-রিভিউ প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণেও তা হতে পারে। তাই প্রতিটি প্রত্যাহারের ঘটনা যথাযথ প্রেক্ষাপটে ও ন্যায়সংগতভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার নিয়ে সাম্প্রতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তারা দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদ প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে গবেষণা সততা ও প্রকাশনার মানোন্নয়নে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান।
আলোচকরা বলেন, গবেষণা সততা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী জাতীয় কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যকর গবেষণা নৈতিকতা ও সততা কমিটি গঠন, গবেষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মানসম্মত ও প্রিডেটরি জার্নাল শনাক্তে সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং পিয়ার-রিভিউ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তারা।
তাদের মতে, গবেষণার মূল্যায়ন কেবল প্রকাশনার সংখ্যার ভিত্তিতে নয়, বরং গবেষণার গুণগত মান, প্রাসঙ্গিকতা, সততা এবং সমাজে এর প্রভাব বিবেচনায় করা উচিত।
ওয়েবিনারের শেষ পর্যায়ে তিনটি মূল বার্তা তুলে ধরা হয়—গবেষণাপত্র প্রত্যাহার মানেই সবসময় অসদাচরণ নয়; সংশোধন ও প্রত্যাহার বিজ্ঞানের আত্মসংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ; এবং গবেষণা সততা নিশ্চিত করতে পুরো গবেষণা ব্যবস্থার সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।
এ সময় বিএসপিইউএ বাংলাদেশে নৈতিক, উচ্চমানসম্পন্ন ও সমাজ-প্রাসঙ্গিক গবেষণা প্রসারে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।