‘ফসলের মাঠে মেঘনার তীরে, ধুধু বালুচরে পাখিদের ভীড়ে, তুমি আমি লিখি গানের বর্ণমালা’ রুণা লায়লার কণ্ঠের এই গানটি এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছে একটি বিলুপ্তপ্রায় বিপন্ন জাতিকে। ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আত্মপরিচয়ের শেকড়ের দিকে। আবেগ আর অনুভূতির মিশেলে এক অনন্য ঘটনার দিকে এগিয়ে পুরো বিষয়টি।
পশ্চিমবঙ্গের আলীপুরদুয়ার জেলার তোরসা নদীর তীরে ভ‚টান বর্ডার ঘেষা একটি এলাকা টোটোপাড়া। এখানে বিলুপ্তপ্রায় টোটো জাতির আবাস। তাদের নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি থাকলেও তারা নেপালী, হিন্দি, বাংলাসহ অন্যান্য ভাষার প্রচলনে জীবনযাপন করেন। এই টোটো জাতির লোকদের কাছে বাংলাদেশের রুণা লায়লার গানে পৌঁছে গেছে। এই শিল্পীর একটি গান এখন তাদের আত্মপরিচয় অন্বেষনে চেতনার মতো কাজ করছে।
সম্প্রতি বিবিসিতে এই টেটো জাতির নিজেদের বর্ণমালা শেখার কিংবা সংরক্ষনের বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে কৌতুহলী হয়ে উঠেন অনেকে। প্রায় ১৭০০ অধিবাসীর এই টোটো জাতির কাজটির জন্য লড়ছেন ধনীরাম টোটো ও ভক্ত টোটো নামের দুজন সংগঠক। জানা গেছে সেই এলাকার একটি স্কুলে সপ্তাহে একদিন শিশুদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বর্ণমালা শেখানো হচ্ছে। আর এভাবেই ধীরে ধীরে হয়তো বর্ণমালাটি হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।