আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব সার্কিটে ধারাবাহিক অগ্রগতি অব্যাহত রেখে ২৮তম ইউকে এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অফিসিয়াল সিলেকশনের মাধ্যমে ইউরোপীয় প্রিমিয়ার শুরু করেছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কবি মোহাম্মদ ফখরুল আলমের মেমোরিস এন্ড মিজারিস।
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন- শরিফ সিরাজ, খালিদ হাসান রুমি, ফখরুল আলম ও ন্যারেশন করেছেন আরিক আনাম খান। হাসিব শাকিলের প্রযোজনায় হাশ ফিল্মস লিমিটেডের (HASH Films Ltd) ব্যানারে নিমির্ত চলচ্চিত্রটিতে তার পাশাপাশি সহকারী প্রযোজক হিসেবে ছিলেন পূজা পোর্তে (ভারত) ও লুতফুল আলম নিটুল। নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে ছিলেন মারুফ প্রতিক। ক্রিয়েটিভ প্রডিউসিং, চিত্রগ্রহণ ও কালার গ্রেডিং করেছেন অনুপম চৌধুরী, তানজিল অনন্ত ছিলেন এডিটর ও ভিএফএক্স সুপারভাইজার হিসেবে, আর্ট ডিরেক্টর ফারিয়া নীলা এবং মিউজিক স্কোর করেছেন বহুব্রীহির রাফি।
পরিচালক ফখরুল আলমের ভাষ্যে, মেমোরিজ অ্যান্ড মিজেরিজ এমন এক কাব্যিক উপাখ্যান যা এক আত্মার পৃথিবীতে কাটানো সময়ে, যা তার যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক ও অস্তিত্বগত বাস্তবতাকে অনুসন্ধান করে, যেখানে যুদ্ধের দৃশ্যমানতা নয়, বরং তার পরবর্তী সময়ের প্রভাবই কেন্দ্রীয় বিষয়। চলচ্চিত্রটি দেখায় কীভাবে যুদ্ধ মানুষের ভেতরের জগৎকে বদলে দেয়। ভালোবাসা, ঘৃণা, ধর্ম কিংবা শিল্পকে আঁকড়ে ধরে একেকজন যুদ্ধাহত মানুষ যতই চেষ্টা করুক বেঁচে থাকার, কিভাবে বাস্তবতা ও ক্রমশ পরিবর্তনশীল দুনিয়ার সাথে অসামঞ্জস্যতা এবং নিঃসঙ্গতার সঙ্গে বাঁধা থাকে তাদের জীবন।
চলচ্চিত্রটির বর্ণনা চিরাচরিত প্রথাগত ন্যারেটিভ ভেঙে কখনো চিঠির মতো কাঠামোয়, কখনো ন্যারেশন, কখনো ক্যামেরার ফ্রেমিং এবং চলার গতি, কখনো কালার ও নিস্তব্ধতার মাধ্যমে স্মৃতি, কল্পনা ও অনুভূতি মিলেমিশে অনিয়মিত এক প্রবাহ তৈরি করে। দৃশ্য নির্মাণ, কালার ও ছন্দ ধীরে ধীরে যেন এক-একটি দৃশ্যকে চলচ্চিত্রিক কবিতায় রূপ দেয়।
এই স্বতন্ত্র ভাষা ও অন্তর্মুখী উপস্থাপনার মাধ্যমে মেমোরিজ অ্যান্ড মিজেরিজ বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রের একটি শক্তিশালী ও বিকাশমান কণ্ঠ হিসেবে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে নিজেকে তুলে ধরছে। চলচ্চিত্রটি এর আগে নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে অফিসিয়ালি নির্বাচিত হয়েছিল।