জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন ব্যক্তিজীবনে ভালো নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ৭ মে তার ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সেই ভালো না থাকার কারণ উল্লেখ করে এক দীর্ঘ ঘটনা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, মবের ভয়ে তার ছেলে নিনিতের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া শাওনের গ্রামের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।
অভিনেত্রী ফেসবুক পেজে লিখেছেন, আগামীকাল ৮ মে থেকে আমার কণিষ্ঠ পুত্র নিনিত হুমায়ূন সাহেবের ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা শুরু হবে। নিনিত সাহেবের বয়স ১৫ বছর, উনার এবার অষ্টম শ্রেণি শেষ করে নবম শ্রেণিতে উন্নীত হবার কথা ছিল।
তিনি পড়তেন বনানীতে অবস্থিত একটি স্কুলে। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর নতুন স্বাধীনতার (!) পর শুধুমাত্র ফেসবুকে নিজের মত প্রকাশের জন্য আমার গাড়িতে ৩ বার মববাজেরা আক্রমণ করে। প্রতিবারই ড্রাইভারের সাথে নিনিত গাড়িতে ছিল, স্কুল থেকে ফিরছিল। তৃতীয় বার আমার ড্রাইভারকে মারধর করে গাড়ির মূল কাগজপত্র কেড়ে নেওয়ার পর থানায় জানাতে গেলে তারা জিডিতে লেখেন—‘অসাবধানতাবশত গাড়ির কাগজপত্র হারিয়ে গেছে।’ আসল কারণ না লেখার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা হতাশ হয়ে জানান, তাদের ওপরে নাকি মববাজদের বিরুদ্ধে কোনো রিপোর্ট নেওয়ায় নিষেধ আছে!
নিজের সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পেরে আমি তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিই। প্রাইভেট কোচিংয়ে ১ বছর পড়াশোনা করে আমার ছেলেটা কাল থেকে ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দিবে।
আপনারা নিনিত হুমায়ূন সাহেবের জন্য দোয়া করবেন। তিনি যেন ভালো মানুষ হতে পারেন।
আমার ঢাকার বাসাতেও ৫ আগস্টের পর বারবার মববাজদের আক্রমণ হয়েছে। বাচ্চাদের মায়ের বাড়িতে রেখে আমি নিজে ৩ মাস এ বাসা ও বাসা থেকেছি! জামালপুরের এক অখ্যাত গ্রামে থাকা আমার বাবার বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। যেই বাড়িতে মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, জিল্লুর রহমানের মতো প্রবীণ রাজনীতিবিদরাও বেড়াতে গেছেন। যেখানে আমাদের পারিবারিক সব পুরষ্কার এবং দেশবিদেশের দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহে একটি পারিবারিক লাইব্রেরি ছিল!
সেখানে এখন শুধু বাড়িটির কঙ্কাল দাঁড়িয়ে আছে। আর মামলার যন্ত্রণা তো বাদই দিলাম। এসব কথা অবশ্য বিদেশে এসি রুমে কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে নিরাপদে বসে অ্যাক্টিভিজম করা বন্ধুরা বুঝবেন না! থাক তাদের বোঝা না বোঝা নিয়ে আমার কি যায় আসে! দোয়া করি তারা নিরাপদ দূরত্বে নিরাপদে থাকুক, তাদের সন্তানেরা নিরাপদে থাকুক।