রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ বেতার–এর সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য জারি করা বিতর্কিত ‘ড্রেস কোড’ নির্দেশনা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও বিভিন্ন মহলের আপত্তির মুখে রোববার নতুন অফিস আদেশ জারি করে আগের নির্দেশনা বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এ এস এম জাহীদের স্বাক্ষরিত নতুন আদেশে জানানো হয়, সংবাদ উপস্থাপকদের পোশাক–সংক্রান্ত পূর্বের নির্দেশনা আর কার্যকর থাকবে না।
এর আগে গত ৪ মে কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থার পরিচালক (বার্তা) তানিয়া নাজনীন স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য আলাদা পোশাকবিধি নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফেসবুক লাইভে সংবাদ বুলেটিন প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করে নারী ও পুরুষ উপস্থাপকদের জন্য পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ওই নির্দেশনায় নারী সংবাদ উপস্থাপকদের শাড়ি অথবা ওড়নাসহ সালোয়ার-কামিজ পরতে বলা হয়। একই সঙ্গে ‘বড় টিপ’ ব্যবহার না করা এবং ‘এক পাশে ওড়না’ না পরার নির্দেশও ছিল। অন্যদিকে পুরুষ উপস্থাপকদের জন্য ফুলহাতা শার্ট ও টাই পরার কথা বলা হয়। বিশেষ দিবস ও উৎসবে পাঞ্জাবি পরার সুযোগ রাখা হলেও টি-শার্ট ও গেঞ্জি পরিধানে নিরুৎসাহিত করা হয়।
নির্দেশনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, সংবাদ উপস্থাপকের পেশাদারিত্ব কি তাঁর পোশাকের ধরনে নির্ধারিত হবে? বিশেষ করে নারী উপস্থাপকদের সাজসজ্জা নিয়ে আলাদা নির্দেশনাকে অনেকে ‘লিঙ্গবৈষম্যমূলক’ বলেও মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মত দেন, সংবাদ উপস্থাপনায় মূল গুরুত্ব হওয়া উচিত ভাষা, উচ্চারণ, আত্মবিশ্বাস ও সংবাদ পরিবেশনের দক্ষতায়; টিপের আকার বা ওড়নার ধরনে নয়।
মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন সম্প্রচারমাধ্যমে সাধারণত পর্দায় উপস্থাপকদের জন্য একটি প্রেজেন্টেশন গাইডলাইন থাকে। তবে সেটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পর্দা–উপযোগী উপস্থিতি ও পেশাদার উপস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ব্যক্তিগত সাজসজ্জা নিয়ে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণকে আধুনিক মিডিয়া সংস্কৃতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মনে করছেন অনেকে।
সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বাংলাদেশ বেতার। ফলে সংবাদ উপস্থাপকদের পোশাক নিয়ে আলোচিত সেই নির্দেশনা আর বহাল থাকছে না।