দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের উপস্থিতি আরও বাড়তে শুরু করেছে। দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ইতোমধ্যে নেমে এসেছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, এটি মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন। চলতি মাসেই হতে পারে ৫টিরও বেশি শৈত্যপ্রবাহ।
প্রথম মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে আগামী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) থেকে চলবে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। সেই সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৪ ডিগ্রিতে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ থেকেই জানা যে, জানুয়ারি আমাদের সবচেয়ে শীতল মাস। এ মাসে ২-৩টি মৃদু থেকে মাঝারি এবং ১-২টি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হবে। ইতোমধ্যে এর ১-২টি সংঘটিতও হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি মৌসুমে মোট ৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২-৩টি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি তাপমাত্রার (৮-১০ ডিগ্রি থেকে ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং ১-২টি শৈত্যপ্রবাহ হবে মাঝারি থেকে তীব্র (৬-৮ ডিগ্রি থেকে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।
বজলুর রশিদ বলেন, দেশে বর্তমানে হালকা থেকে মাঝারি একটি শৈত্যৃপ্রবাহ চলছে। তবে মঙ্গলবার থেকে একটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে তখন দেশের তাপমাত্রা আরও কমতে থাকবে। হয়তো এটি ৪ ডিগ্রীর নিচেও নামতে পারে। এর দাপট মাঝারি থেকে তীব্র হতে পারে। এটি চলবে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে আমরা সবসময় নিশ্চিতভাবে বলি কেবল তখনই, যখন তা ঘটে যায়—আগাম জোরালোভাবে বলি না।
এসময় চলমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নওগাঁ, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, যশোর এবং কুষ্টিয়া অঞ্চলে মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বইছে। অর্থাৎ এখানে এখনো শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। এটি চলমান থাকতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ ঘোষণা করতে গেলে সেখানে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমপক্ষে ৫ ডিগ্রি কমতে হবে। স্বাভাবিক তাপমাত্রা বলতে গত ৩০ বছরের গড় তাপমাত্রাকে বোঝানো হয়। এছাড়া অন্তত ২-৩টি আবহাওয়া স্টেশনে এই পরিস্থিতি থাকতে হবে এবং তা কমপক্ষে দুই দিন স্থায়ী হতে হবে। তখন আমরা সেটিকে শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ঘোষণা করি।
যদিও আবহাওবিদরা বলছেন, দেশের শীতকালের স্থায়িত্ব কমলেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। বৃষ্টিপাত হলে এই কুয়াশাবলয় কেটে আকাশ পরিষ্কার হতো। কিন্তু বায়ুদূষণের তীব্রতার কারণে যাচ্ছে না কুয়াশাবলয়। সহসা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও নেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি মৌসুমে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই-তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি তাপমাত্রার (৮-১০ ডিগ্রি থেকে ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক-দুইটি শৈত্য প্রবাহ হবে মাঝারি থেকে তীব্র (৬-৮ ডিগ্রি থেকে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।
এদিকে পূর্বাভাসে গত ডিসেম্বর মাসের আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলা হয়, ওই মাসে ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে। সবচেয়ে কম হয়েছে সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে। ওই পাঁচ বিভাগে আসলে কোনো বৃষ্টিই হয়নি। ডিসেম্বর মাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে যশোরে টানা দুই দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টায় জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কুড়িগ্রামে শনিবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় বলে জানান রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।
পঞ্চগড়ে শনিবার সকাল ৯টায় ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে। ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
জয়পুরহাট ও জয়পুরহাটের পার্শ্ববর্তী নওগাঁর বদলগাছি আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুসারে, শনিবার সকাল ৬টায় নওগাঁ ও জয়পুরহাট এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।