আইনের চোখ ফাঁকি দিতে বাথরুমের দেয়ালে গোপন সুড়ঙ্গ বানিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি বহুল আলোচিত বিটিএল গ্রুপের মির্জা আবুল বাশারের। গাড়ি বিক্রির নামে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে নগদ এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এবার তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (২১ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই নতুন জালিয়াতির শিকার মো. আজিজুল ইসলাম নামের এক গাড়ি ব্যবসায়ী, যিনি পুরোনো গাড়ি কেনাবেচা এবং গ্যারেজ ব্যবসায় জড়িত। ব্যবসায়িক পরিচয়ের সুবাদে তাকে জালে জড়ান বিটিএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মির্জা বাশার। একটি আকর্ষণীয় পুরোনো গাড়ি বিক্রির লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হয় আজিজুলকে। তার কথায় বিশ্বাস করে গত বছরের ৬ জুন গাড়ির অগ্রিম মূল্য বাবদ বাশারের হাতে নগদ ১ কোটি টাকা তুলে দেন আজিজুল ইসলাম। বাশার তখন এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিল যে, এই টাকা লেনদেনের পুরো ভিডিওচিত্রও ধারণ করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আজিজুল তখনো জানতেন না, এই ভিডিওই একদিন বাশারের অপরাধের অকাট্য দলিল হয়ে দাঁড়াবে।
নগদ এক কোটি টাকা নিয়ে বাশার শুরু করেন কালক্ষেপণ। মাস পেরিয়ে বছর পেরোলেও আজিজুল ইসলামকে আর গাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে বাশার সরাসরি জানিয়ে দেন—তিনি গাড়ি দিতে পারবেন না। তখন ব্যবসায়ী আজিজুল নিজের এক কোটি টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় টালবাহানা। নিরুপায় হয়ে চাপ সৃষ্টি করা হলে, গত ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর একটি স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন বাশার। সেখানে উল্লেখ ছিল—এক মাসের মধ্যে পুরো এক কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা মেলেনি। উল্টো গত ১৪ ডিসেম্বর যখন আজিজুল ইসলাম টাকা ফেরত চাইতে যান, তখন বাশার ও তার সিন্ডিকেট ওই ব্যবসায়ীকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেন!
বাশারের হুমকির মুখে দমে না গিয়ে আইনের দ্বারস্থ হন ব্যবসায়ী আজিজুল। গত ১৫ ডিসেম্বর তিনি সরাসরি আদালতে মামলা করার আবেদন জানান। আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি আমলে নিয়ে গুলশান থানাকে অভিযোগটি নিয়মিত এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর ২৩ ডিসেম্বর গুলশান থানায় অফিশিয়ালি মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
‘নাগরিক প্রতিদিন’ ও দ্য ব্লুপ্রিন্ট বাশার সিন্ডিকেটের একের পর এক জালিয়াতির খবর সামনে আনলে চারদিক থেকে চাপ বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে বাশারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আজ রোববার বাশারকে কড়া পাহারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফীন ইসলাম বাশারের এই জালিয়াতির পেছনের রহস্য ও আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
অন্যদিকে, বাশারের আইনজীবী দল রিমান্ড বাতিল করে জামিনের চেষ্টা চালান। তবে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে বাশারকে দুদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ মঞ্জুর করেন।