চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে তিন লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছেজাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যা একই সময়ের মধ্যে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রোববার (২১ জুন) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
তবে একই সময়ে রাজস্ব আদায়ে ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে বলেও জানায় এনবিআর।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত অর্থবছরের একই সময়ে তিন লাখ ২৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। সে তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১০.০২ শতাংশ।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ তিন হাজার কোটি টাকা। প্রথম ১১ মাসে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
প্রথম ১১ মাসে কাস্টমস অনুবিভাগে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.০৮ শতাংশ। ভ্যাট অনুবিভাগে প্রবৃদ্ধি ১০.০৫ শতাংশ ও আয়কর অনুবিভাগে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২.৫৪ শতাংশ।
এদিকে জুন মাসের প্রথম ২০ দিনে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে ২০ জুন পর্যন্ত মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের পুরো বছরের মোট আদায় তিন লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এনবিআর আশা করছে, জুন মাসের শেষ ১০ দিনে আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে। সে ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় চার লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হবে। তবে তাতেও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যাবে।
রাজস্ব আদায় বাড়াতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস অনুবিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। তাদের দাবি, কর ফাঁকি শনাক্ত, অডিট কার্যক্রম জোরদার, উৎসে কর ও ভ্যাট আদায়ের তদারকি, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট ও বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার ফলে রাজস্ব আদায়ে গতি এসেছে।