সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশের দুশ্চিন্তার নাম আকামা নবায়ন। সময়মতো আকামা নবায়ন না হলে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের জরিমানা, আবার দালালের খপ্পরে পড়ে খরচ দ্বিগুণ হওয়ার অভিযোগও কম নয়। তবে সরকারি নিয়ম সম্পর্কে ধারণা থাকলে বৈধ পথেই খরচ অনেকটা কমানো সম্ভব।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সচেতনতার অভাবে অনেক প্রবাসী প্রয়োজনের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করেন।
এখন খরচ কত
সৌদির জাওয়াজাত (পাসপোর্ট অধিদপ্তর) সর্বশেষ যে ফি নির্ধারণ করেছে, তাতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের জন্য আকামার মূল ফি বছরে ৬৫০ সৌদি রিয়াল। গৃহকর্মীদের জন্য ৬০০ রিয়াল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় আবশির সেবা ফি বাবদ ৫১.৭৫ রিয়াল।
এখন এক বছরের পুরো টাকা একসঙ্গে না দিয়েও আকামা নবায়নের সুযোগ রয়েছে। চাইলে তিন মাসের জন্য ১৬৩ রিয়াল, ছয় মাসের জন্য ৩২৫ রিয়াল বা নয় মাসের জন্য ৪৮৮ রিয়াল দিয়েও নবায়ন করা যাচ্ছে। ফলে যাদের হাতে একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা থাকে না, তাদের জন্য এটি স্বস্তির খবর।
এর বাইরে ওয়ার্ক পারমিট ও নির্ভরশীলদের (পরিবার) লেভি ফি রয়েছে, যা শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগকর্তা বহন করার কথা।
খরচ কমানোর উপায়
একাধিক প্রবাসী ও রিয়াদে কর্মরত এক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে খরচ কমানোর কয়েকটি উপায় জানা গেছে।
প্রথমত, জরিমানা এড়ানো। আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন দিন আগে নবায়ন করতে হয়। দেরি হলে প্রথম দফায় ৫০০ ও দ্বিতীয় দফায় ১ হাজার রিয়াল জরিমানা হয়। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগে থেকেই কফিল বা কোম্পানিকে তাগাদা দেওয়া জরুরি।
দ্বিতীয়ত, ভাগে ভাগে নবায়ন। অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান (মোয়াসসাসা) কর্মীদের আর্থিক চাপ কমাতে এখন তিন বা ছয় মাস পরপর নবায়ন করছে। এতে এককালীন চাপ কমে। আবশির বিজনেস ও মুকিম পোর্টালে এই সুবিধা চালু আছে।
তৃতীয়ত, দালাল এড়িয়ে নিজে যাচাই করা। বর্তমানে আকামা সংক্রান্ত সব কাজ অনলাইনে হয়। আবশির অ্যাপে ঢুকে নিজের আকামার মেয়াদ, স্বাস্থ্যবিমার অবস্থা ও ফি নিজেই দেখা যায়। দালালকে অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৫০০ রিয়াল না দিয়ে সরাসরি কোম্পানির জনসংযোগ কর্মকর্তার (মন্দুব) মাধ্যমে করলে খরচ কমে।
চতুর্থত, স্বাস্থ্যবিমা যাচাই। আকামা নবায়নের জন্য বিমা বাধ্যতামূলক। একই সুবিধার বিমা বিভিন্ন কোম্পানিতে দামের পার্থক্য থাকে। সরকার অনুমোদিত তালিকা থেকে তুলনামূলক কম খরচের বৈধ বিমা বেছে নেওয়া যায়।
প্রবাসীকল্যাণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম খরচের নামে অবৈধ পথে না গিয়ে বৈধ পথেই সচেতন হলে বছরে হাজার রিয়াল পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব। কোনো প্রতিষ্ঠান আকামার টাকা কর্মীর কাছ থেকে জোর করে নিলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১৯৯১১-এ অভিযোগ জানানো যেতে পারে।