দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বিরোধীদলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় বসতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সম্মত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিন বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের আনীত ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই সংসদে আমরা প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল একটি জায়গায় উপনীত হয়েছি, দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই। আমি প্রথমেই বিরোধীদলীয় নেতা ও বিরোধীদলীয় সব সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকে যে বিষয়টি নিয়ে আমরা এতক্ষণ এখানে আলোচনা করলাম, অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে এই মুহূর্তে আমরা যেই সংসদে দাঁড়িয়ে আছি, এটি বহু শহীদের রক্তের ওপরে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের মানুষের আগামী দিনের সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার ওপরে এই সংসদ প্রতিষ্ঠিত। আজকে এই সংসদে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলাম, সেটি নিয়ে হয়তোবা আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে, নিঃসন্দেহে কেউই আমরা অস্বীকার করছি না বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এই মুহূর্তে বিশ্ব রাজনীতি, বিশ্ব পরিস্থিতি ও বিশ্ব বাস্তবতা বিবেচনায় সমগ্র বিশ্বের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে যেভাবেই আমরা বলি না কেন, যে পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে আমরা যাচ্ছি, বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের প্রত্যেকটি মানুষ, প্রত্যেকটি দেশ ও জাতির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার দলের পক্ষ থেকে আমি বলতে পারি, দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থের ব্যাপারে কেউ যদি কোনো প্রস্তাবনা দেন, আলোচনা করতে চান, পরামর্শ ও সুপারিশ দেন, আমরা যে অবস্থানেই থাকি না কেন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে এবং সেই প্রস্তাবে আলোচনা করতে আমরা রাজি আছি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি সংসদকে অবহিত করতে চাই, সংসদ নেতা হিসেবে অবশ্যই আমরা বিরোধীদলকে আমন্ত্রণ জানাব। তাদের দেওয়া সব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করব। তাদের প্রস্তাবে বাস্তবতার নিরিখে যদি কোনো কিছু থাকে, যেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব অবশ্যই আমরা তা করব। কারণ বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। কাজেই যে আলোচনা করলে বা যে কাজ করলে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে, ইনশাআল্লাহ আমরা অবশ্যই সে কাজ করব।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এদিন বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়ে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এ মুলতবি ঘোষণা করেন।