ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়মিত দর্শকদের কাছে আর্লিং হলান্ড বহুদিন ধরেই পরিচিত এক নাম। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিনের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
বিশ্বকাপে নরওয়ের জার্সিতে ৭ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন হলান্ড। বিশেষ করে ব্রাজিলের বিপক্ষে তার দুই গোল বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় আনে নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারকে। মাঠে তার লম্বা পদক্ষেপ, বাতাসে উড়তে থাকা সোনালি চুল আর ধারাবাহিক গোল করার ক্ষমতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে এনে দিয়েছে আলাদা জনপ্রিয়তা। এই জনপ্রিয়তার ঢেউ পৌঁছে গেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতেও। দেশটিতে নবজাতকদের নাম রাখা হচ্ছে হলান্ডের নামে।
সংবাদ সংস্থা অ্যান্দিনার বরাত দিয়ে পেরুর সংবাদমাধ্যম পেরু ২১ জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় পরিচয় ও নাগরিক নিবন্ধন সংস্থা রেনিয়েকের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪৬৮ জন নবজাতকের নাম নিবন্ধিত হয়েছে ‘হলান্ড’ নামে। এছাড়া ৯১ জন শিশুর পুরো নাম রাখা হয়েছে ‘আর্লিং হলান্ড’।
বিশ্বকাপ শুরুর পর কয়েক সপ্তাহেই এসব নাম নিবন্ধনের বেশিরভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে ব্রাজিলকে হারিয়ে নরওয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর এই প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।
রেনিয়েকের মুখপাত্র ইভান তোরেস বলেন, ‘বিশ্বের বড় ফুটবল তারকারা পেরুর মানুষকে অনুপ্রাণিত করেন, যাতে তারা নিজেদের সন্তানদের আকর্ষণীয় ও বিখ্যাত নাম দেন। মানুষকে এই ধরনের নাম ব্যবহার করতে আমরা নিষেধ করি না।’
অবশ্য পেরুতে ফুটবল তারকাদের নামে সন্তানের নাম রাখার ঘটনা নতুন নয়। রেনিয়েকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩ হাজার ৪০২ জনের নাম ‘মেসি’, যার মধ্যে ২৯২ জনের পুরো নাম ‘লিওনেল মেসি’। এছাড়া ১ হাজার ১৮৫ জনের নাম ‘ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো’, ১ হাজার ২৪১ জনের নাম ‘ইয়ামাল’, ২৩৮ জনের নাম ‘এমবাপ্পে’ এবং সবচেয়ে বেশি ৩৩ হাজার ৮০৯ জনের নাম ‘নেইমার’।
বিশ্বকাপ থেকে নরওয়ে বিদায় নিলেও আর্লিং হলান্ডের জনপ্রিয়তার গোলযাত্রা যে থেমে নেই, পেরুর এই নামকরণের প্রবণতাই তার বড় প্রমাণ।